- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

মৌলভীবাজারে নির্যাতিত সাংবাদিকের মামলা পিবিআইতে

এইবেলা, মৌলভীবাজার, ১৭ ডিসেম্বর::  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানায় সাংবাদিক সাইফুল ইসলামকে নির্যাতনের ঘটনায় স্ত্রীর দায়ের করা মামলার আসামিদের পক্ষে ডিবি পুলিশের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে বাদী সাংবাদিক পত্মী নারাজি প্রদানের পর পূনরায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভিষ্টিগেশন এডিশন্যাল এসপি মৌলভীবাজারকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান প্রেরণের নিদের্শ দিয়েছেন আদালত।

১৪ ডিসেম্বর সোমবার দুপরের মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো: বাহাউদ্দিনের আদালতে সাইফুলের স্ত্রী রুমি বেগম এ নারাজি আবেদন এর প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মামলার আইনজীবি এডভোকেট জালাল উদ্দিন ও এডভোকেট রোদ্রজিৎ ঘোষ।

আইনজীবী জালাল উদ্দিন জানান, নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপারকে সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের চিকিৎসাজনিত মেডিকেল প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণের পর পূনরায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশনের এডিশন্যাল এসপিকে আগামী ৭ জানুয়ারীর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

গত ৩০ আগস্ট মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশের এসআই মো. রশিদ উদ্দিন এ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। পরে ২১নভেম্বর আদালতে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদীনি। জানা যায়, ২২ এপ্রিল দৈনিক জনতা এবং মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পাতাকুঁড়ির দেশ পত্রিকায় শ্রীমঙ্গল থানার ওসির বিরুদ্ধে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ২৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিক সাইফুল ইসলামকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ক্যাথলিক মিশন রোড এলাকা থেকে সাদা পোশাকে শ্রীমঙ্গল থানার তৎকালীন ওসি আবদুল জলিলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আটক করে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে।

পরদিন ২৪ এপ্রিল বিকালে গাড়িতে পেট্রল বোমা হামলা এবং পুলিশ অ্যাসল্টের ২টি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ৩৮ দিন কারাভোগের পর সাইফুল জামিনে মুক্ত হন। সাইফুলের অভিযোগ, আটকের পর ওসি আবদুল জলিলের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য সারা রাত তাকে নির্যাতন করেন। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনায় সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রুমি বেগম ১৩ মে ওসি আবদুল জলিলকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মৌলভীবাজার ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে ১৪ জুলাই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

ডিবি পুলিশ ৩০ আগস্ট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ২৩ এপ্রিল রাতে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আবদুল জলিল, ওসি (তদন্ত) কেএম নজরুল ইসলাম, এসআই গিয়াস উদ্দিন, এএসআই আবুল বাশার এবং অন্যান্য অফিসাররা শহরের ক্যাথলিক মিশন রোডের অরুন দেবের বাসার সামনে পৌঁছা মাত্র আসামি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা আসামি লোহার রড দিয়ে ওসি জলিলের মাথায় আঘাত করে। পরে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় সাইফুলকে আটক করা হয়।

রুমি বেগম অভিযোগ করেন, মামলার আসামি পুলিশ অফিসারদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের পক্ষে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। পরে আদালতে নারাজি প্রদানের পর পূনরায় পিবিআইতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের আদেশ দেয়া হয়েছে। কারণ আগে ডিবি মিথ্যা প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। আবার তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে।

রিপোর্ট-বিশেষ প্রতিনিধি

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *