ডিসেম্বর ২৯, ২০১৫
Home » ব্রেকিং নিউজ » কুলাউড়ায় আ’লীগ-বিএনপি’র লড়াইর মাঝে হুমকি স্বতন্ত্র প্রার্থী

কুলাউড়ায় আ’লীগ-বিএনপি’র লড়াইর মাঝে হুমকি স্বতন্ত্র প্রার্থী

এইবেলা, কুলাউড়া ২৯ ডিসেম্বর :: কুলাউড়া পৌরসভায় নির্বাচণী মুল লড়াই হবে ত্রিমুখী। এই আসনে বিএনপি বিজয়ী হলে হবে হ্যাট্রিক। আর আওয়ামী লীগের আসন পুনরুদ্ধার। দুই দলের কাছে কাছেই মর্যাদা রক্ষা আর পুনরুদ্ধারের লড়াই। এই লড়াইয়ে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। শেষতক এই স্বতন্ত্র প্রার্থী চমক দেখালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কুলাউড়া পৌরসভায় ১৮ হাজার ১০০ ভোটারের মধ্যে ৯ হাজার ১৩৩ পুরুষ এবং ৮ হাজার ৯৬৭ জন নারী তাদের প্রিয় মেয়র ও কাউন্সিলরদের বেছে নিতে প্রস্তুত। ৯টি ভোট কেন্দ্রে ৪৭টি বুথে একযোগে ভোট গ্রহণ করতে প্রস্তুত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
কুলাউড়া পৌরসভায় মেয়র পদে লড়ছেন ৪ প্রার্থী। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত একেএম শফি আহমদ সলমান, বিএনপি প্রার্থী ও টানা দু’বারের নির্বাচিত মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ এবং স্বতন্ত্র আলহাজ্ব শফি আলম আলম ইউনুছের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

SolmanIunus
ভোটারদের মতে, আওয়ামী লীগ মনোনীত একেএম শফি আহমদ সলমান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠ পর্যায়ে এসে উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাতে ভোটাররা উন্নয়নের স্বার্থে দলীয় এই প্রার্থী বিবেচনা করছেন বেশ গুরুত্বের সাথে। প্রথম দিকে অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়েছে ভোটররা বাস্তবতা মেনে নিয়ে নৌকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। কেন্দ্রিয় নেতারা কুলাউড়ায় এসে উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাছাড়া বি গ্রেডের এই পৌরসভাকে এ গ্রেডে উন্নিত করার ঘোষনা দিয়েছেন। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী কাদিপুর ইউনিয়নের ৩বারের নির্বাচিত এই চেয়ারম্যান যদি মেয়র নির্বচিত হন তাহলে পৌরসভার উন্নয়নের পাশাপাশি একজন দক্ষ অভিভাবক পাবে বলে ভোটারদের অভিমত।

kamal uddin  juned
বিএনপি প্রার্থী কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ টানা দু’বারের নির্বাচিত মেয়র। ১২ বছর দায়িত্বপালন করে ভোটারদের কাছে পরীক্ষা দিতে হবে এবার। প্রার্থী ও ভোটারদের সরগরম প্রচারণার মাঠে তিনি ও তার ভোটাররা নিরব। যদি নিরব বিপ্লব সাধিত হয়, তাহলে তিনি করতে পারেন হ্যাট্রিক। তবে চাওয়া পাওয়ার হিসেবে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ক্ষোভ অভিমান চরমভাবে প্রতিয়মান হচ্ছে। সেটা কাটিয়ে উঠতে পারলেই বিএনপি’র মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে তিনি উত্তীর্ণ হবেন। অবশ্য ২০ দলীয় জোট তার পক্ষে রয়েছে আক্ষরিক অর্থে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চমক দেখাতে পারেন আলহাজ্ব শফি আলম ইউনুছ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত এই নেতার প্রতি মানুষের রয়েছে সহমর্মিতা। যদিও দল তাকে বহিস্কার করেছে। তাতেও তার প্রতি ভোটারদের আগ্রহের কমতি নেই। আওয়ামী লীগ- বিএনপি’র মান অভিমানের নিরসন হলেও দু’দলের কিছুটা নিরব সমর্থণ রয়েছে তার প্রতি। তার সুফল পড়তে পারে এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে। তাছাড়া বিগত নির্বাচনে ২৬৫৬ ভোট পাওয়ায় এই মেয়র প্রার্থীর একটা নিজস্ব ভোট ব্যাংকও রয়েছে। বিশাল অর্থে বিত্তের অধিকারী এই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নিয়ে ভোটরদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শেষতক নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে, স্বতন্ত্র এই মেয়র প্রার্থী চমক দেখালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মুহিবুর রহমান কতটা ভোট টানতে পারেন সেটাই হলো দেখার বিষয় বলে মনে করেন ভোটাররা।
তবে কাল ৩০ ডিসেম্বর ফায়সালা হবে কুলাউড়া পৌরসভার কে হচ্ছেন নতুন কর্ণধার। বিজয়মাল্য যার গলায় উঠুক না কেন- ভোটাররা চান একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।#