- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

জুড়ীতে বই উৎসবে নিজে কাঁদলেন, অন্যকেও কাঁদালেন গুলশান আরা মিলি

সাইফুল ইসলাম সুমন, ০৩ ডিসেম্বর:: বই নিয়েও যে উৎসব হতে পারে তা সত্যিই চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। একটা সময় ছিল এই বাংলাদেশেই যখন অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বা পুরাতন বই কোতায় থেকে জোগাড় করবেন সে চিন্তায় অস্থির থাকতেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বছরের প্রথম দিন নতুন ক্লাসের নতুন বই হাতে পেয়ে দেশের অন্য স্থানের মতো মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার নব প্রতিষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা এমএ মুমীত আসুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরাও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ছিল মাতোয়ারা। এসব শিশুর চোখ-মুখে যেন ভেসে উঠেছিল নতুন কিছু আবিষ্কারের স্বপ্ন।

নতুন বই পাবে, তাই কুয়াশাচ্ছন্ন শীতও হার মেনেছে এসব কচি প্রাণের আনন্দ-উচ্ছ্বাস-আবেগের কাছে। কারো কাছে নতুন বইয়ের ছড়া-গল্প ভালো লাগে, আবার কারো কাছে সবচেয়ে প্রিয় নতুন বইয়ের ছবিগুলো।

শুক্রবার (১ জানুয়ারী) সকালে মুক্তিযোদ্ধা এমএ মুমীত আসুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা চৌধুরী মিলি। নিজের প্রয়াত স্বামীর নামে নব প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলটিতে এসে আবেগে-আপ্লুত হয়ে পড়েন মিলি। যতক্ষণ স্কুলে ছিলেন ততক্ষণই স্বামীর স্মৃতি তাকে কাদাতে থাকে আর কাদতে থাকে উপস্থিত জনতা।

উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হামিদ হাসিমের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক বাবু সুভাষ চন্দ্র দেবনাথের উপস্থাপনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান গুলশান আরা চৌধুরী মিলি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান, জুড়ী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম, এম.ইউ শিক্ষা সেবা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সুমন প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিলি বলেন, আমার স্বামী এমএ মুমীত আসুক ছিলেন জুড়ীর রত্ন। তিনি একটি কলেজ সহ প্রতিষ্ঠা করেন অসংখ্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় যার ফলে তিনি শিক্ষা প্রসারে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে স্বর্ণ পদক লাভ করেন। কিন্তু দুঃখ হয় যে মানুষটি সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন সেই মানুষটির নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি বন্ধ করার জন্য একটি কুচক্রীমহল বারবার চেষ্টা করেছে। এমএ মুমীত আসুকের জন্য দোয়াও চান তিনি।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যকরে মিলি আরো বলেন, আমরা ছোটবেলায় নতুন বই পেতাম না। পেতাম পুরনো বই। তাও ওপরের ক্লাসের বড় ভাইবোনদের পিছে ঘুরতে হতো। যার বই সুন্দর মলাটে বাঁধা থাকত তার পিছে ঘুরতাম। এখন তোমরা নতুন বই পাচ্ছ। বিশ্বের কোনো দেশে সবাইকে নতুন বই দেয় না। শুধু যারা দরিদ্র তাদের দেয়। আমাদের দেশে সবাইকে নতুন বই দেয়া হচ্ছে। পর্যাক্রমে সবাইকে শতভাগ উপ-বৃত্তিও দেওয়া হবে। আমি তোমাদের প্রতি একটি আহব্বানই রাখবো তোমরা ভালো করে লেখা-পড়া করে এই বিদ্যালয়ের সুনাম দেশ থেকে দেশান্তরে পৌছে দিবে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *