জানুয়ারি ১৩, ২০১৬
Home » জাতীয় » পিপি পদ পেতে হবিগঞ্জের আ.লীগের দুই আইনজীবির দৌড়ঝাঁপ

পিপি পদ পেতে হবিগঞ্জের আ.লীগের দুই আইনজীবির দৌড়ঝাঁপ

এইবেলা ডেস্ক, ১৩ নভেম্বর:: হবিগঞ্জের প্রধান আইন কর্মকর্তা (পাবলিক প্রসিকিউটর) হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের দুই আইনজীবী নেতা এখন ঢাকায়। একজন বসতে চাইছেন ওই পদে। আরেকজন দৌড়াচ্ছেন পদ রক্ষার জন্য। হবিগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতিতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের শুরুতে পাবলিক প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ পান অ্যাডভোকেট এম আকবর হোসাইন। সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য এবং দলে সক্রিয় ভূমিকা থাকায় তাঁকে পিপি বানাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসায় অনেকেরই ধারণা ছিল, সরকারি আইনজীবীদের পরিবর্তন করে নতুন লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ না থাকায় অনেকেই হতাশ হন। এরই মধ্যে অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম মোল্লা মাসুম ঢাকায় লবিং করে নারী ও শিশু আদালতের পিপি পদে নিয়োগ পান। তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও অ্যাডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক ঢাকায় তদবির করেন পিপি পদে নিয়োগ লাভের জন্য।

শোনা যায়, তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার‌্যালয়েও যোগাযোগ করেছেন। খবর পেয়ে অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু চলে যান ঢাকায়।

পিপি পদে দুই নেতার এই দৌড়ঝাঁপে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বলছেন স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে ঢাকা থেকে তদবিরের মাধ্যমে এ ধরনের পদে নিয়োগ দিলে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে।

দলের একটি অংশ মনে করে, দলের সিনিয়র নেতা হিসেবে ওই পদে অ্যাডভোকেট সিরাজুল হককে নিয়োগ দেওয়া উচিত। অন্য অংশ মনে করে, পিপি হিসেবে অ্যাডভোকেট এম আকবর হোসাইন জিতু একজন পরীক্ষিত ব্যক্তি। বিগত সময়ে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে চাঞ্চল্যকর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলা, সিরিজ বোমা ও জঙ্গিসংক্রান্ত মামলা এবং তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শক্ত হাতে পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে সপ্তাহের একাধিক দিন তিনি সিলেটে গিয়ে কিবরিয়া হত্যা মামলা পরিচালনা করছেন। তাঁকে পরিবর্তন করলে মামলাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পিপি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতুও তা-ই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিবরিয়া হত্যা, জঙ্গি ও সিরিজ বোমা হামলার মামলা পরিচালনা করেছি। দলের পক্ষে প্রতিটি মামলায় সামনে থেকেছি। পাবলিক নির্বাচন ও বারের নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছি। অথচ যাঁরা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে নীরব থেকেছেন এমনকি বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা দলের স্থানীয় চেইন অব কমান্ড ভেঙে পিপি হওয়ার চেষ্টা করছেন। এটি কারো কাম্য নয়। তবে দল চাইলে তিনি এ পদ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।’

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক চৌধুরী জানান, এ ব্যাপারে বলার মতো এখনো কিছু হয়নি। তবে তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।

সূত্র-কালেরকণ্ঠ