জানুয়ারি ১৪, ২০১৬
Home » ব্রেকিং নিউজ » হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা

এইবেলা, হবিগঞ্জ, ১৪ জানুয়ারি:: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার ওসি অমুল্য কুমার চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। উৎকোচ দাবী এবং দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭ এর ৫ (ক) ধারায় সোমবার (১১ জানুয়ারী) হবিগঞ্জের স্পেশাল জজ আদালতে (বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত) এ মামলা দায়ের করেছেন চুনারুঘাট উপজেলার গোলাগাও গ্রামের মৃত আঃ রেজ্জাকের পুত্র আব্দুল হামিদ।

মামলাটি তদন্তের জন্য জেলার দুর্নীতি দমন কমিশনের ডেপুটি ডাইরেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। তদন্ত করে আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে রিপোর্ট দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ওসির বিরুদ্ধে এ মামলার পর পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর থানায় অভিযোগ দায়েরের এক মাস অতিবাহিত হলে তাকে উদ্ধার করা যায়নি। কিন্তু ওসির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরদিনই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে। তবে অপহরণকারীকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।
অভিযোগে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার সাটিয়াজুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী তাহমিনা আক্তারকে (১৩) গত ৪ ডিসেম্বর ৪ যুবক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর ৮ ডিসেম্বর  তার চাচা আব্দুল হামিদ চুনারুঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। থানার ওসি অমুল্য কুমার চৌধুরী অভিযোগটি রেখে এজাহার লিপিবদ্ধ না  করে আজ কাল পরশু বলে সময় ক্ষেপন করেন। এ অবস্থায় আঃ হামিদ গত ৮ জানুয়ারী হবিগঞ্জ পুলিশ সুপারের সাথে এ বিষয়ে দেখা করে বিস্তারিত মৌখিক ভাবে জানালে পুলিশ সুপার ওসিকে টেলিফোনে ভিকটিম উদ্ধারের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করেন। বিকেলে অনুমান ৫ ঘটিকায় আঃ হামিদ  চুনারুঘাট থানায় গেলে ওসি অমুল্য কুমার চৌধুরী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং থানার সামনে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে পর পর দুটি লাথি মারেন এবং তাকে জোরপুর্বক কানধরে ওটবস করান।

পরে ওসি বাদী আঃ হামিদের কাছে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে আবার চড়থাপ্তর দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন ওসি। এতেও ক্ষ্যান্ত হননি ওসি অমুল্য কুমার চৌধুরী। তিনি বাদী হামিদ মিয়াকে মামলা মোকাদ্দমার ভয় দেখিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। এছাড়া মামলা দায়ের পর বাদী পালিয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না। পুলিশ বেশ কয়েকরা তার বাড়িয়ে গিয়ে তাকে খোজ করেছে। মামলা আপোষের জন্য তাকে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলেও বাদী অভিযোগ করেন।
এদিকে ১১ জানুয়ারী আদালতে ওসির বিরুদ্ধে মামরা দায়েরের পরদিন পুলিশ অপহৃত তাহমিনাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আদালতে প্রেরন করে। এ ঘটনায় চুনারুঘাটের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ওসির এ ধরনের আচরনে মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চুনারুঘাটবাসী তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জুতা ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন। তাকে অপসারণের দাবী জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সকল নেতাকর্র্মীরা।

রিপোর্ট- চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি