মে ৮, ২০১৫
Home » জাতীয় » মেধা ও শ্রম কাজে লাগাতে পারলেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব —কমলগঞ্জে প্রধান বিচারপতি

মেধা ও শ্রম কাজে লাগাতে পারলেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব —কমলগঞ্জে প্রধান বিচারপতি

এইবেলা, কমলগঞ্জ ০৮ মে:
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস, কে, সিনহা) বলেছেন, বর্তমান সরকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকার প্রত্যেক বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্ধ দিচ্ছে। সরকারের ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তা আজকের কোমলমতি শিশুরাই সুফল ভোগ করবে। বছরের শুরুতে অনেক প্রতিকুলতার মধ্যেও সরকার কোমলমতি শিশুদের হাতে বই তুলে দিতে সম্ভব হয়েছে। এটা সরকারের পাশাপাশি সরকারী কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় সম্ভব হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, পশ্চাৎপদ সময়ে যদি এখান থেকে লেখাপড়া করে আজ আমি এ অবস্থানে আসতে পারি, আধুনিক এ যুগে কেন লেখাপড়া করে সর্বোচ্চ আসনে যেতে পারবে না কেন ? আমি বিশ্বাস করি আজকের এ কোমলমতি শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হবে। এ জন্য মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। মেধা ও শ্রম কাজে লাগাতে পারলেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছা সম্ভব। তিনি বলেন, আজ আমার জীবনের স্মরণীয় দিন। এ বিদ্যালয়ে আমি লেখা পড়া করেছি। প্রধান বিচারপতি হয়ে আজ এ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম। জনস্বার্থে মুনাফা কম করে গুনগত মাণ রেখে ভালভাবে ভবন নির্মাণ করতে হবে। ভূমিকম্প ঝূঁকির কথা ও কোমলমতি শিশুদের কথা ভেবে ভিত্তি মজবুদ করে ভবন নির্মাণ করতে হবে।
Pic--Chief Justice---02
প্রধান বিচারপতি সিনহা শুক্রবার সন্ধ্যায় এলজিইডির অর্থায়নে ৫১ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৫০ টাকা ব্যয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের রাণীরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্যাট শ্যাম কান্ত সিংহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মো. সফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান। অণ্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা, আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা, রাণীরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি রাজকান্ত সিংহ প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাও: এনাম উদ্দিন ও গীতা পাঠ করেন ধনকৃষ্ণ অধিকারী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আরও বলেন, রাণীর বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে ছাত্রী ও শিক্ষিকার ব্যবহারে টয়লেট নির্মাণ করা হবে। আর এর ব্যয় তিনি নিজে বহন করবেন। তিনি প্রাথমিকভাবে চারটি জেলাকে কেন্দ্র করে একটি পাইলট প্রোগ্রাম গ্রহন করেছেন। তা হলো প্রতিটি আদালতে মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেট নির্মাণ। নারী শিক্ষা উন্নয়ন, সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারী বই বিতরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে। তিলকপুর গ্রামে শিক্ষিতের হার শতভাগ। আর তাই তিনি চান এখান থেকে লেখাপড়া করে ভবিষ্যত প্রজন্ম আরও প্রধান বিচারপতি, রাষ্ট্রপতিসহ সরকারী উচ্চ পদে আসীন হোক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৫১ লাখ ৪২ হাজার ৩৫০ টাকা ব্যয়ে রানীরবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে মেসার্স সুনিয়া এন্টারপ্রাইজ।
আজ শনিবার সকাল ৮টায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস, কে, সিনহা) মৌলভীবাজার জেলা সফর শেষে ঢাকায় চলে যাওয়ার কথা রয়েছে।#
রিপোর্ট- প্রণীথ রঞ্জন দেবনাথ