- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

কমলগঞ্জে শেষ সময়ে চলছে এলজিএসপি প্রকল্পে লুটপাট

এইবেলা, কমলগঞ্জ, ১৮ মার্চ:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ সময়ে লোকাল গর্ভমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) সমুহে লুটপাট চলছে। প্রকল্প কাজের নাম পর পর অর্থ বছরে এবং একই নাম পরিবর্তন করে সংশ্লিষ্ট পরিষদের ভূমি হস্তান্তর (১%), জেলা পরিষদ ও এলজিএসপিতে তালিকাভূক্ত করে টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রাস্তা ইটসলিং, কালভার্ট, ড্রেন, ল্যাট্রিন নির্মাণের নামে প্রকল্প তৈরী করে সিন্ডিকেট চক্রের যোগসাজষে চলছে এসব কার্যক্রম। এ ধরনের ভুয়া প্রকল্পের নামে শমশেরনগর ইউনিয়নে টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব চিত্র পাওয়া গেছে। তবে জনপ্রতিনিধিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাজের স্বচ্ছতা দাবি করেছেন।

Kamal 002

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে জনগণের প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এসব বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে কিছুই জানানো হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের লোক ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কমিটি করে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি চেয়ারম্যানদের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে চলে আসায় প্রকল্প কাজে পুকুর চুরি মারাত্মকহারে বেড়েছে। এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে চাইলেও ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি সদস্য বলেন, এলজিএসপি কাজে সবচেয়ে বেশী দুর্ণীতি হয়। এসব কাজে কেউ তদারকি করেন না। ইউএনও অফিস, ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট মেম্বারদের যোগসাজসে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হয়।

এলজিএসপি ও ইউনিয়নের (১%) সহ অন্যান্য খাত হতে কাজ না করে ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ বিষয়ে শমশেরনগর ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর গত ১৩ মার্চ কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় একই প্রকল্পের নাম দিয়ে ইউনিয়নের (১%) ও এলজিএসপিতে নাম দিয়ে টাকা উত্তোলন করে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বিমান বন্দর সড়ক অলি মিয়ার বাসার সামনা হইতে বশির মাস্টারের বাসার সামনা পর্যন্ত রাস্তার পাশের ড্রেন নির্মাণে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

অথচ একই অর্থ বছরে ওই প্রকল্পে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের অর্থায়নে বড়লেখাস্থ নিপা এন্টারপ্রাইজ কাজ সম্পন্ন করে। বিষয়টি ব্যাপক প্রচার হওয়ায় ইউএনও অফিসে শমশেরনগর এলজিএসপি’র এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে গোবিন্দপুর গ্রামে জয়নাল মিয়ার দোকানের সামনা হইতে উত্তরমুখী রাস্তা ইটসলিং এর জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্ধ দেখানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গোবিন্দপুর গ্রামে গিয়ে জয়নাল মিয়ার দোকানের সামনা হইতে উত্তরমুখী রাস্তায় ইটসলিং এর কোন কাজ দেখা যায়নি। গ্রামের সুন্দর মিয়া, নজরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের সময়ে এই এলাকায় কোন কাজ হয়নি।

Kamal001

একইভাবে কৃষ্ণপুর খালিক মিয়ার বাড়ির সামনে রাস্তায় ইটসলিং কাজের জন্য ৮০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেখানো হলেও সরেজমিনে কোন কাজ দেখা যায়নি। শমশেরনগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে দুস্থদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নির্মাণে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেখানো হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে চা বাগান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিতরণকৃত ১০টি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন প্রদানকারীর নামে বিল ভাউচার করে সমুহ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থ বছরে রাধানগর বারিক মিয়ার বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে গার্ডওয়াল নির্মাণে ১ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নেয়া হলে আজোবধি কোন কাজ হয়নি। উপজেলার ইসলামপুর, আদমপুর, আলীনগর, পতনঊষার, কমলগঞ্জ সদর সহ সবকটি ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের শেষ সময়ে প্রকল্পের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া বিগত সবক’টি অর্থবছরে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে টিউবওয়েল স্থাপন দেখানো হলেও বাস্তবতার সাথে মিল পাওয়া যায়নি। ২০১২-১৩ অর্থবছরে উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে সবকটি ইউনিয়নে ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপনে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা হারে বরাদ্ধ করা হলে একই অর্থ বছরে এলজিএসপিতেও ল্যাট্রিন ও টিউবওয়েল স্থাপন দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ বিষয়ে শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, তার সবকটি কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যেগুলো সম্পন্ন হয়নি সেগুলো মাত্র প্রকল্পভূক্ত হয়েছে এবং কাজ সম্পন্ন করারও যথেষ্ট সময় রয়েছে। অভিযোগ সমুহ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, শমশেরনগর ইউনিয়নে এলজিএসপি প্রকল্পে অনিয়ম বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তক্রমে সবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রিপোর্ট-প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *