মার্চ ২০, ২০১৬
Home » জাতীয় » কুলাউড়ায় বিদেশী চোরাই কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফ্লাইউড

কুলাউড়ায় বিদেশী চোরাই কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফ্লাইউড

টিপি ছাড়াই বাজারজাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে

এইবেলা, কুলাউড়া, ২০ মার্চ :: কুলাউড়া উপজেলার ব্রাম্মণবাজার হিঙ্গাজিয়া ফ্লাইউড ফ্যাক্টরীতে বিদেশী চোরাই কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ফ্লাইউড। দীর্ঘদিন ধরে এ কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে অবৈধ বিদেশী কাঠ ব্যবহৃত হলেও রহস্যজনক কারণে বনবিভাগ, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার। অথচ বিদেশি কাঠ ও এসব কাঠ দিয়ে তৈরি ফ্লাইউড পরিবহনে টিপি (রোড পারমিট) নেয়ার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

জানা গেছে, কুলাউড়ার ব্রাম্মণবাজারে ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন হিঙ্গাজিয়া ফ্লাইউড ফ্যাক্টরিতে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় কাঁচামাল শিমুল কাঠের পাশাপাশি ভারতীয় ও বার্মার গর্জন কাঠ ব্যবহার করা হয়। বিদেশী কাঁচামালের অধিকাংশ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে ভারত ও বার্মা থেকে নিয়ে আসা হয়। তবে কিছু বিদেশী কাঠ বৈধপথে ঢাকা ও চট্টগ্রাম পর্যন্ত আমদানী করা হলেও সেখান থেকে শত শত মাইল দুরবর্তী ফ্যাক্টরি পর্যন্ত ট্রান্সপোর্ট পারমিশন (টিপি) ছাড়াই পরিবহন করা হয়। গত ১২ মার্চ ঢাকার মুন্সিগঞ্জ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার বার্মার গর্জন কাঠ প্রশাসনের চোঁখে ধুলো দিয়ে অবৈধভাবে এ ফ্যাক্টরিতে নিয়ে আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে জগদিশপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ চেকপোষ্ট (বনজদ্রব্য পরীক্ষণ ফাঁড়ি), বন বিভাগের বিশেষ টহল দলকে মাসোয়ারা দিয়ে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ৬-৭ বছর ধরে অবৈধভাবে বিদেশী কাঠ ও কাঠের তৈরি ফ্লাইউড পরিবহন করছে।
Kulaura Gorjon Wood
রোববার সরেজমিনে হিঙ্গাজিয়া ফ্লাইউড ফ্যাক্টরিতে গিয়ে প্রায় সহস্রাধিক সিএফটি বিদেশী গর্জন কাঠ থাকতে দেখা গেছে। কাঠগুলো বার্মা থেকে আমদানীকৃত জানিয়ে ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত কাঠগুলোর ট্রান্সপোর্ট পারমিশন রয়েছে। এরপর প্রায় সাড়ে তিনশ’ কিলোমিটার পরিবহনের বৈধ কোন কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। টিপি না থাকলেও কাঠগুলো বৈধ বলে তিনি দাবি করেন।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, হিঙ্গাজিয়া ফ্লাইউড ফ্যাক্টরিতে বেশ কিছু বিদেশী গর্জন কাঠ টিপি ছাড়া আনার খবর পেয়ে বনবিভাগ সেগুলো জব্দ করেছে। বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারলে বনবিভাগ সেগুলো নিলামের ব্যবস্থা নিতে পারে। এছাড়া বিদেশী কাঠে তৈরি ফ্লাইউড পরিবহনেও বন বিভাগের টিপি নেয়ার বাধ্যবাদকতা রয়েছে।

’বিজিবি ৪৬ ব্যাটেলিয়নের (শ্রীমঙ্গল) সেক্টর কমান্ডার কর্নেল জাকির হোসেন যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। রোড পারমিড ছাড়া বিদেশী কাঠ পরিবহনের নিয়ম নেই। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশী কাঠ পাওয়া গেলে বিজিবি সেগুলো জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। এব্যাপারে তিনি খোজ নিচ্ছেন বলে জানান।#

রিপোর্ট- বিশেষ প্রতিনিধি