মে ১০, ২০১৫
Home » মৌলভীবাজার » কমলগঞ্জে বাল্য বিয়ে বন্ধ হওয়ায় স্কুলে ফিরেছে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী

কমলগঞ্জে বাল্য বিয়ে বন্ধ হওয়ায় স্কুলে ফিরেছে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী

এইবেলা, কমলগঞ্জ ১০ মে : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্কুলে ফিরেছে শারমিন আক্তার। মাত্র ১৩ বছর বয়সী শারমিনকে বসতে হবে বিয়ের পিঁড়িতে এমনটিই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার বাবা মা। বাবা মায়ের বিরুদ্ধে ‘না’ বলার সাহস নেই শিশু শারমিনের। অবশেষে কমলগঞ্জ ইউএনও’র হস্তক্ষেপে শুক্রবার শারমিনের বিয়ে বন্ধ হয়ে গেলে শনিবার থেকে স্কুলে যেতে শুরু করেছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আক্তার হঠাৎ করেই গত ২০ এপ্রিল থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। তার বিয়ের তারিখ ছিল গত ৮ মে শুক্রবার। স্কুল কর্তৃপক্ষ, সহপাঠি, বন্ধুবান্ধব কেউ জানত না তার স্কুলে অনুপস্থিতির কারন। কিন্তু কেউ না জানলেও যাদের জানা প্রয়োজন সময়মত ঠিকই জেনে যান তারা। বিষয়টি জানতে পেরে গত ৪ মে ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খুরশেদ আলী ৮ম শ্রেণির ছাত্রীর শারমিনের পিতা শ্রীপুর (কোনাগাঁও) গ্রামের মো. নাজির মিয়াকে লিখিত এক পত্রে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে অনুরোধ জানান। এরপর তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব সহ সকলের সাথে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে কমলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মৌসুম পাল সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক কমলগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিষয়টি জেনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর শারমিনের বিয়ে স্থগিত করার জন্য নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট সকলকে। এরই ফলশ্র“তিতে ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হয় বাল্য বিয়ের মত ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত বর পক্ষকে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ সাহসের সঞ্চার করেছে কোমলমতি শিক্ষার্থী শারমিনের মনে। সে শনিবার থেকে স্কুলে যেতে শুরু করেছে। শারমিন এখন ফিরে এসেছে পড়াশুনায়। বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য তৃনমূল পর্যায়ে জন-সচেতনতা সৃষ্টিতে স্থানীয় প্রশাসন, বেসরকারী সংস্থা, গণমাধ্যমসহ সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই সম্ভব হচ্ছে শারমিনের মত শিশুদের বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করা।#
রিপোর্ট- প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ