- আন্তর্জাতিক, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

অবৈধ ইমিগ্রান্টদের জন্য বন্ধ পর্তুগালের দুয়ারও

২ সপ্তাহে ৩০০ জনকে দেশত্যাগের নির্দেশ

মুনজের আহমদ চৌধুরী, ০২ এপ্রিল :: ইউরোপে বাংলাদেশী  ইল্লিগ্যাল ইমিগ্র্যান্টদের বৈধভাবে রেসিডেন্ট পারমিট লাভের আশার গন্তব্য পর্তুগালের দুয়ারও প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গেল দুই সপ্তাহে ভিসা বা রেগুলারাইজেশনের আবেদন করা প্রায় ৩০০ জনকে পর্তুগাল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। একই সাথে যারা সেনজেনের বৈধ ভিসা ছাড়া পর্তুগালে প্রবেশ করেছেন তাদের আবেদনের ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে নতুন করে কড়াকড়ি। সেনজেনের ভিসা নিয়ে যারা এসেছেন তাদের ক্ষেত্রে চাওয়া হচ্ছে বৈধভাবে পর্তুগালে আসার টিকেট সহ প্রমানপত্র।

গত কয়েক বছরে ব্রিটেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী পর্তুগালে গিয়ে রেসিডেন্স পারমিট পান। ধীরে ধীরে পর্তুগাল হয়ে উঠে ইউরোপের ইল্লিগ্যাল ইমিগ্রান্টদের আশার ঠিকানা। পর্তুগালে আশার বসতি গড়েন বহু বাংলাদেশী। পুর্ব লন্ডনের ব্রিকলেন বা হোয়াইট চ্যাপেলের আদলে গড়ে উঠে বিশাল বাংলাদেশী বসবাসরত এলাকার কমিউনিটি। পর্তুগালে গত কয়েক বছরে পাড়ি জমানো বাংলাদেশী বংশোব্দুতদের বৃহৎ একটি অংশই ব্রিটেন থেকে বৈধ নাগরিকত্বের আশায় পাড়ি জমান পর্তুগালে। সাথে নিয়ে যান জমানো টাকা। কারো ব্রিটেনে বসবাসরত আত্বীয়-স্বজন টাকার যোগান দেন এখান থেকে।

কিন্তুু দেশটির সরকারের ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রনে নেয়া পদক্ষেপ এবং ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রনে ইউরোপিয় ইউনিয়নের চাপের কারনে দেশটির অভিবাসন প্রক্রিয়া ক্রমেই কঠিনতর হচ্ছে। আরোপ করা হচ্ছে নতুন করে নানা বিধি।

পর্তুগাল থেকে চ্যানেল আই ইউরোপের পর্তুগাল প্রতিনিধি মুহাম্মদ নুরুল্লাহ জানান, গত ৬ বছর ধরে চলা নিয়মে কোন ব্যাক্তি পুর্ন কাজের কন্ট্রাক নিয়ে মাত্র ৬ মাস কাজ করেছেন দেখিয়ে ভিসা বা রেগুলারাইজেশনের আবেদন করতে পারতেন। ব্রিটেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ২০১৩ থেকে অভিবাসনের পথ ক্রমেই সংকুচিত করছিল তখন ইইউতে অবৈধ অভিবাসীদের ত্রাণকর্তার ভুমিকায় অবতীর্ন হয় অর্থনৈতিকভাবে তুলনামুলক অসচ্ছল দেশ পর্তুগাল। কিন্তু কিছুদিন আগেও ভিসাবিহীন পাসপোর্টধারীরা কয়েকমাসের সরকারী ট্যাক্স পরিশোধ করেই দেশটিতে বসবাসের সুযোগ পেতেন। কিন্তু গত দু সপ্তাহে পাল্টে গেছে সে চিত্র। এই প্রতিবেদক পর্তুগালের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন সেন্টার ঘুরে জানতে পেরেছেন এ কয়েকদিনে ৩০০ জনের বেশি ব্যাক্তিকে পর্তুগাল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশীও রয়েছেন। যদিও তারা সবাই দেশত্যাগের এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দেশটির আইন অনুসারে আপীল করার সুযোগ পাবেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *