- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

সিলেট-আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনে বন্দোবস্তকৃত কৃষি জমিতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের হিড়িক

এইবেলা, কমলগঞ্জ ০৪ এপ্রিল :: বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের দু’পার্শ্বে হাজার হাজার কোটি টাকার মূল্যবান ভূ-সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালীরা কৃষি বন্দোবস্ত নিয়ে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল মূল্যবান এসব জমি প্রকাশ্য দখলে নিয়ে প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও সম্পত্তি রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কোন দায় নেই।

Kamal-01
জানা যায়, সিলেট-আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের জমি স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। সম্প্রতি সময়েও কৃষি বন্দোবস্ত নেয়া ভূমিতেও পাকা দালান নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে। প্রভাবশালী মহল কর্তৃক রেলওয়ের কৃষি বন্দোবস্ত নেওয়া জমিজমার সাথে পরিত্যক্ত জমি নিজেদের দখলে নিয়ে চড়া দামে ক্রয় বিক্রয় চলছে। কৃষি বন্দোবস্তকৃত স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরা টিনসেড, পাকা ও আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এসব ঘরে নিন্ম আয়ের লোকজন ভাড়া নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। রেলপথের পাশে এসব জমিতে গড়ে উঠা কিছু কলোনী সমূহে লোহা চুরি, মাদক ও পতিতা ব্যবসার আস্তানাও গড়ে উঠছে।

Kamal03
রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয়ের অফুরন্ত সুযোগ থাকলেও অবৈধভাবে জমি বেহাত হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে সেই সুযোগ থেকে হাতছাড়া হচ্ছে। শমশেরনগর রেলষ্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রভাবশালী মহল কৃষি বন্দোবস্ত ভূসম্পত্তি নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। এই জোনের টিলাগাঁও, লংলা, ভাটেরা, কুলাউড়া, শমশেরনগর, ভানুগাছ, শ্রীমঙ্গল, সাতগাও, রশিদপুর, লস্করপুর, শায়েস্তাগঞ্জ ও নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন ষ্টেশনের পাশের জমি অবৈধ দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মিত হচ্ছে। তাছাড়া সংঘবদ্ধ চোর চক্রও রেলপথের স্লিপারের সাথে যুক্ত ক্লিপ, নাটবল্টু প্রতিনিয়ত চুরি করে নিচ্ছে। রেলপথ থেকে এসব ক্লিপ চুরির ফলে রীতিমত ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চলাচল করছে। এছাড়াও বিভিন্ন ষ্টেশনের পরিত্যক্ত রেল লাইন থেকে হরদম চুরি হচ্ছে মূল্যবান লোহার সরঞ্জামাদি, রেল লাইনের যন্ত্রাংশ ও মালামাল। টেলিফোন ও সিগন্যাল লাইটের কাজে ব্যবহৃত তার, খুঁটি কেটে নিচ্ছে। অন্যদিকে রেল লাইনের ক্লিপ, নাটবল্টুসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়ায় এই সেকশনে রেল চলাচলে ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। একই সাথে বাড়ছে দুর্ঘটনাও।
এই সেকশনের কয়েকজন রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার জানান, কৃষি বন্দোবস্ত নিয়ে এভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাসাবাড়ি ও দোকান গৃহ গড়ে উঠছে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে অবাধে একের পর এক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে গেলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। বদলী, চাকুরী হারানোর ভয়ও তাদের রয়েছে।
এ ব্যাপারে রেলওয়ের সহকারী ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কাজী হাবিবুল্লাহ বলেন, ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে লিজ নিয়ে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে মামলা দেয়া হচ্ছে এবং উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। কৃষিজমিতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপন বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।#

রিপোর্ট- প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *