এপ্রিল ১৪, ২০১৬
Home » জাতীয় » পান্তা-ইলিশ বর্জন করলো বাঙালি!

পান্তা-ইলিশ বর্জন করলো বাঙালি!

এইবেলা ডেস্ক, ১৪ এপ্রিল:: অন্যান্য বারের মতো আজ পহেলা বৈশাখের প্রথম সকালে রমনা ও এর আশেপাশের এলাকায় পান্তা-ইলিশের বেচাকেনার তেমন কোনো চিত্র লক্ষ্য করা যায়নি। আর এতেই এবার পান্তা-ইলিশ বর্জন করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

পহেলা বৈশাখ বৃহস্পতিবার রমনা, মৎস্যভবন এলাকায় ঘুরে পান্তা-ইলিশের তেমন কোনো অস্থায়ী দোকান দেখা যায়নি। তবে কাকরাইল মসজিদের সামনে একটি অস্থায়ী দোকানে পান্তা-ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে। সেখানে ১০০ টাকায় পান্তা-ইলিশ বিক্রি করলেও লোকজনের তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান বিক্রিতা আব্দুল হালিম।

তিনি বলেন, ‘সকালে মৎস ভবন এলাকায় পান্তা-ইলিশ নিয়ে বসলে পুলিশ সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে এখানে এসে বেচাকেনা শুরু করি। কিন্তু গত বছরের মতো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’

এছাড়া রমনা চাইনিছ রেস্টুরেন্টে চলছে ইলিশ প্যাকেজ। ভাত বা খিচুরী বা পোলাওয়ের সঙ্গে এক পিচ ইলিশ, একটা পানি ও কোমল পানীয়। যার মূল্য নেয়া হচ্ছে ৪৫০ টাকা।

এদিকে পান্তা-ইলিশ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার অন্ত নেই। কেউ বলছে, পহেলা বৈশাখের সকালে পান্তা-ইলিশ খাওয়া বাঙালি রীতি, আবর কেউ বলছে, বাঙালির ঐতিহ্যে এমনটা কখনও ছিল না। তবে যে যাই বলুক, পান্তা-ইলিশের আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ইলিশ বিক্রির নামে মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছে।

রমনায় আগত লোকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আসলে নববর্ষে পান্তা খাওয়া আমাদের ঐতিহ্য নয়। আগে এটা নিয়ে এতো মাতামাতি হতো না। গত দুই তিন বছর ধরে কিছু মুনাফা লোভী সিজনাল অস্থায়ী ব্যবসায়ী বৈশাখে মানুষের আবগকে পুঁজি করে চড়া দামে ইলিশ বিক্রি করে। এবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাওয়া হবে না। যা মিডিয়াতে বেশ প্রচার হয়েছে। এতে করে সিজনাল ব্যবসায়ীদের মনোবল অনেকটাই ভেঙে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ফলে অনেকেই এখন পান্তা-ইলিশকেই বাঙালি সংস্কৃতি মনে করছে না।

সংস্কৃতিকর্মী অভিজিৎ রায় বলেন, ‘আসলে বাংলা নববর্ষে ভালো খাবার খাওয়ার একটা প্রচলন ছিল। কিন্তু ভালো খাবার বলতে সেটা পান্তা-ইলিশ নয়। ফলমূল হতে পারে, খাবারের ম্যানুতে বৈচিত্র থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘যেসব অস্থায়ী দোকানে পান্তা বিক্রি করে তা স্বাস্থ্যকর কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে এবার তো অন্যান্য বারের মতো পান্তা বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, বাঙালি এবার পান্তা-ইলিশ বর্জন করেছে।’

উল্লেখ্য, জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় নববর্ষ উদযাপনের দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ ১৪২৩ এর খাদ্য তালিকা থেকে ইলিশ বর্জন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে পহেলা বৈশাখের খাবারের তালিকায় খিচুড়ির সঙ্গে থাকছে বেগুন ভাজি, ডিম ও মুরগির মাংস ভুনা।

এদিকে ইলিশের প্রজনন মৌসুমের এ সময়ে জাটকা নিধন কমাতে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বৈশাখে ইলিশ বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নববষের্র সাথে পান্তা-ইলিশের কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে পহেলা বৈশাখে ইলিশ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

এছাড়া ইতিমধ্যে কুমিল্লা, খুলনা ও বরিশালের জেলা প্রশাসকরা পহেলা বৈশাখে ইলিশ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রজননের সময় অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া অভয়াশ্রয়গুলোতে মার্চ ও এপ্রিল ইলিশ শিকার বেআইনি ঘোষণা করেছে সরকার।

তবে পহেলা বৈশাখে বিশেষ করে ঢাকাকেন্দ্রিক বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ইলিশ-পান্তা খাওয়ার সংস্কৃতি চালু হওয়ায় এসময়টাতে ইলিশের চাহিদা অত্যন্ত বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরাও বেশি লাভের আশায় জাটকা ইলিশ শিকার করে। অনেক কারণের মধ্যে এই শহুরে সংস্কৃতির জন্যও দেশে ইলিশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।