- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, সিলেট, স্লাইডার

বিদ্যুৎ বিপর্যয় আট দিন ধরে অন্ধকারে বালাগঞ্জ

এইবেলা, বালাগঞ্জ ২৩ এপ্রিল :: সিলেটের বালাগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে একটানা আট দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছেন উপজেলাবাসী। গত সপ্তাহের শনিবার ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিপর্যয় শুরু হলে রোববার সকাল পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহের রোববার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কয়েক দফা বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করলেও তা আধা ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।

গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন-বড় ধরণের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা ঝড়-তুফান ছাড়াই বৃষ্টি আর হালকা বাতাস হলেই বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে-জন-জীবনে অসহনীয় ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। আর বাসা বাড়িতে পানির তীব্র সংকট, রেফ্রিজারেশনে রাখা নিত্য প্রয়োজনিয় খাবার গুলো পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা আগাম না জানিয়ে কেন দীর্ঘ সময় এভাবে সংযোগ বন্ধ রাখছেন? এমন প্রশ্ন গ্রাহকদের।

রোববার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন ক্রটিগুলো মেরামতের জন্য লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকবে বলে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা-কর্মচারীরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক লোকসান গুনেতে হচ্ছে। বিপাকে পড়েছেন ব্যাংকসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও। কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন-দিনের পর দিন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখায় সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কাশিকাপন জোনাল অফিস ও বালাগঞ্জ এরিয়া অফিসের মোবাইল নাম্বারে কল দিলেও কল রিসিভ হয় না, মোবাইল বন্ধ থাকে এমনকী মোবাইল বিজি অপশনে (২৪ ঘণ্টা নাম্বার বিজি) রাখারও অভিযোগ রয়েছে। আর টানা কয়েক দিন যাবৎ বিদ্যুৎ সুবিধা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়াও গ্রীষ্মকাল শুরু হতে না হতেই প্রতিনিয়তই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন উপজেলাবাসী। দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়াই দিন-রাত মিলিয়ে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। কয়েক দফা বিদ্যুতের মূল্য (ইউনিট) বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুতের এমন আসা-যাওয়ার খেলায় গ্রাহকদেরকে প্রতি মাসে বাড়তি বিল গুনতে হচ্ছে।

এদিকে বছরের অধিকাংশ সময় সিলেট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন কাশিকাপন জোনাল অফিস থেকে বালাগঞ্জ উপজেলার তিন ভাগের এক ভাগ এলাকা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎ (৯০ মেঘাওয়াট) কেন্দ্র থেকে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরসহ উপজেলার দুই ভাগ অংশের গ্রাহকদেরকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু কয়েক দিন পর পরই ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা বালাগঞ্জ অংশের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কাশিকাপন জোনাল অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। কাশিকাপন জোনাল অফিসের তত্ত্বাবধানে যে এরিয়া রয়েছে সেসব এরিয়ায় চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদেরকে একটানা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এর মধ্যে আবার বালাগঞ্জের বিশাল অংশ কাশিকাপন জোনাল অফিসের সঙ্গে যুক্ত করায় দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে উপজেলাবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের অফিস পাড়ায় সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়েও প্রায় বিদ্যুতের দেখা মিলেনা। বিদ্যুৎ সমস্যায় দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় খোদ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা ক্ষোব্ধ রয়েছেন। ফেঞ্চুগঞ্জে সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হলেও বাতির নিচে অন্ধকারের মত রয়েছেন বালাগঞ্জ উপজেলাবাসী। ফলে অসহনীয় লোডশেডিং আর বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে বালাগঞ্জবাসীর জনজীবন নাকাল হয়ে পড়ে। আর বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ এই দুই উপজেলায় স্থাপিত দু’টি বিদ্যুৎ অফিসের মধ্যে এরিয়াগত ঠেলাঠেলির কারণেই বালাগঞ্জবাসী মাসের পর মাস অন্ধকারে কাটাচ্ছেন।

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক বার অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তরাও এ বিষয়ে কার্যকর কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কাশিকাপন জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন-ঝড়ের কারণে সঞ্চালন লাইনে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় তা মেরামত করার জন্য দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *