এপ্রিল ২৭, ২০১৬
Home » জাতীয় » বড়লেখায় ধামাই নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার : ভাঙ্গনের মুখে সড়ক ও ব্রিজ

বড়লেখায় ধামাই নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার : ভাঙ্গনের মুখে সড়ক ও ব্রিজ

এইবেলা, বড়লেখা ২৭এপ্রিল :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ধামাই নদীতে অবৈধভাবে বাঁশের বেড়া (খাঁটি) দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে ইউনিয়নের পাটনা গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা, ব্রিজ ও নদীসংলগ্ন ফসলের জমি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা গেছে, উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ধামাই নদীর পাটনা এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছেন। প্রায় প্রতিবছরই তারা এখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে থাকেন। এতে বেড়ায় পানি আটকে ফুলেফেঁপে পাটনা গ্রামের সড়ক ভেঙে নদীতে পড়ছে। পাশের ফসলি জমি এবং বেড়া সংলগ্ন ব্রিজটির পাশের মাটি ভেঙে পড়ছে। অন্যদিকে মাছের অবাধ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

Bor

এ বিষয়ে ঝগড়ী গ্রামের বাসিন্দা ক্ষীপক রঞ্জন দাস বেনু জানিয়েছেন, নদীতে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি জানিয়ে তিনি গত বছর বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুনরায় এবছরও নতুন করে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে পাটনা গ্রামে গেলে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে। বেড়া থেকে প্রায় ১০ হাত দূরে একটি ব্রিজ রয়েছে। নদীতে বেড়া দেওয়ার কারণে ব্রিজের সামনে ভাঙন ধরেছে।

এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত সইব আলী বেড়া (খাঁটি) দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘কেদই মিয়া ও সুজন বিশ্বাস খাঁটি দিয়ে মাছ শিকার করছেন। মাছ শিকারে তার কোন সম্পৃক্ততা নাই বলে দাবি।

তবে অভিযুক্ত সুজন বিশ্বাস নদীতে বেড়া (খাঁটি) দিয়ে মাছ শিকারের কথাটি স্বীকার করে বলেন, ‘সব জায়গায় তো খাঁটি দিয়া মাছ মাররা। আমরা দিলে সমস্যা কই (কোথায়)।’ নদীতে বেড়া দিয়ে মাছ শিকার অবৈধ জেনে তিনি বলেন, ‘গরীব মানুষ আমরা। মাছ না মারলে খাইতাম কিলা।’

এ ব্যাপারে মৎস কর্মকর্তা আবু ইউসুফ অভিযোগ পওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘গত বছর অভিযোগ পাওয়ার পার খাঁটি (বেড়া) তুলে দেওয়া হয়েছিল। শুনেছি এবারও খাঁটি দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

রিপোর্ট- লিটন শরীফ