মে ১৪, ২০১৫
Home » জাতীয় » সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানার ওসিসহ ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানার ওসিসহ ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

এইবেলা, শ্রীমঙ্গল ১৪মে :-
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার ১৩ মে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট মোহাম্মদ জুলফিকার আলীর আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রুমি বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

মামলায় আসামী করা হয় শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, উপ-পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন, এসআই জাকির হোসেন, এসআই মাসুদ, ট্রফিক সার্জেন্ট মাহফুজ, (এএসআই) বাশার।

মামলার এজহারে রুমী বেগম উল্লেখ করেন, তার স্বামী সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম দৈনিক জনতা, বাংলাট্রিবিউন ও সাপ্তাহিক পাতাকুঁড়ির দেশ পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি বিভিন্ন সময় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করেন। এর জের ধরে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

রুমি বেগম আরও উল্লেখ করেন, তার স্বামীকে ওসি বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে হুমকি দেন। তিনি তাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন তার লেখা অব্যাহত থাকলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখবেন ও পুলিশ রিমান্ডে এনে উচিৎ শিক্ষা দিবেন।

২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের রুপসপুরের বাসা থেকে সাইফুল ইসলাম বের হয়ে পূর্বাশা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শহরের ক্যাথলিক মিশন রোড এলাকায় পৌঁছালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে সাদা পোষাকে কয়েকজন পুলিশ তাকে পেছন দিক থেকে জাপটে ধরে। সাইফুল অপহরণকারী অথবা ছিনতাইকারী ভেবে আত্মরক্ষার জন্য চিৎকার করেন এবং তাদের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ল্যাপটপ, নগদ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল জলিলসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যের চিনতে পারেন। সেখান থেকে তাকে শ্রীমঙ্গল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বাদীর অভিযোগ করেন, ওই রাতেই ওসি আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে চোখ বেঁধে তারই কক্ষে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে থানা হাজতেও তাকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে সাইফুলের হাত পা ও কোমর থেতলে যায়। পরবর্তীতে তাকে মৌলভীবাজার হাসপাতাল ও পরে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। বর্তমানে তিনি অত্যাচার ও নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে আছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জালাল আবেদীন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।#