- সাহিত্য, স্লাইডার

শুধুই সাংবাদিকদের জন্য!

রায়হান উল্লাহ:

দৃশ্য ১ :
ঈদের বাজারে হুড়মুড়। সুসজ্জিত গ্লাসে আবদ্ধ মোলায়েম জামা। ধরতে মানা, দাম জানা যাবে!

দৃশ্য ২ :
খেজুর, হালিম আর বোতলজাত পানি পাশে নিয়ে রাষ্ট্রের কর্ণধারের সঙ্গে চলে নবম ওয়েজ বোর্ডের কথোপকথন।

দৃশ্য ৩ :
মেসের ভাড়া ও খাবারের টাকা দেওয়া হয়নি রহিমের। বিড়ি ফুঁকার খরচ দেন সহযোদ্ধা। রাতের পথ মাড়িয়ে দারোয়ানের অনুগ্রহে ঢেরায় ফেরে সে। মাথায় কিলবিল করে বাবা-মায়ের বুনে দেওয়া স্বপ্ন।

দৃশ্য ৪ :
গোলাম বেঁচে খায় ডেনজার চাহিন। সঙ্গে খায় কতক যুবার স্বপ্ন। আরও খায় মুড়ি, পেয়ারা। খায় নিজের সত্তা, স্বপ্ন। অবশ্য তার ভাষ্য- খবর সম্পাদনা করতে করতে নখগুলো গেছে ক্ষয়ে। আহ, এ বড় কষ্টের!

দৃশ্য ৫ :
রহিম শুয়ে শুয়ে ভাবে- অষ্টম ওয়েজ বোর্ড একবার পেয়েছিল সে, কাগজে-কলমে। দু’বছর চাকরি শেষে বেতনের হিসেবটা হাসি-তামাশার।

দৃশ্য ৬ :
গণমাধ্যমকর্মী রহিম খবর সম্পাদনা করে- ঈদে বেতন-বোনাস ঠিকভাবে চান গার্মেন্টকর্মীরা। পরক্ষণে নিজেই হাঁসফাঁস করে। ভাবে- আমিই ঠিকভাবে বেতন পাব এ গ্যারান্টি কই? বোনাস দূর অস্ত!

দৃশ্য ৭ :
গণমাধ্যম পুঁজি করে সুফি-দরবেশরা বাগিয়ে নিচ্ছে জীবন। কালো কাচে আবদ্ধ রাজ্যের দলন।

দৃশ্য ৮ :
লাভ হয়ে গেল দলবাজ-পতাকাবাহী আবুলদের। গর্ভবতী থলে জমা রাখে গিন্নির কাছে। আরও রাখে প্লট ও ফ্লাট ক্রয়ের চুক্তির দলিল।

দৃশ্য ৯ :
নিউজপ্রিন্ট বেঁচে খায় সুফি-দরবেশরা। আরও খায় কতিপয় সংগামীর স্বপ্ন। সর্বশেষ খায় পুরো দেশ।

দৃশ্য ১০ :
বাবা-মায়ের স্বপ্ন সঙ্গী করে ঈদে বাড়ি ফেরে রহিম। এক অজানা অপরাধবোধ কুরে কুরে খায় তাকে। শান্তি পায় এই ভেবে- ‘একদিন আমরাও …।’

(উপরের সব চরিত্র কাল্পনিক। কারও সঙ্গে মিলে গেলে তা নিতান্তই কাকতালীয়। এর জন্য লেখক দায়ী নয়।)

লেখক-সাংবাদিক

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *