- নির্বাচিত, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

উজাড় হয়ে যাচ্ছে কমলগঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল : প্রতিদিন পাচার হয় লাখ লাখ টাকার কাঠ

প্ :

এইবেলা, কমলগঞ্জ ১৬ মে :-

বনদস্যুদের দৌরাত্ম্যে উজাড় হয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার কাঠ পাচার হয়ে যাচ্ছে। ঠেলাগাড়ি, ট্রাক ও ট্রেনে এসব কাঠ পাচার হয়ে থাকে। আর করাত কলে (স’মিল) গভীর রাত পর্যন্ত চোরাই কাঠ চিরানী হলেও বনবিভাগ নিরব ভূমিকা পালন করছে। বৃক্ষনিধনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিরানভূমিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা করছেন পরিবেশবিদরা। অবশ্য কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সক্রিয় তৎপরতার ফলে প্রায়ই ধরা পড়ছে চোরাই কাঠ।

জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া ও রাজকান্দি রেঞ্জের অধীনস্থ বিভিন্ন বনবিট এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্যহারে পাচার হচ্ছে সেগুন, চামল, গামাই, রাও, গর্জন, জাম, শিল কড়ই, জারুল, সুন্ধি, বনাক, আউয়াল প্রভৃতি গাছ। এতে বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। বনাঞ্চল থেকে প্রায় প্রতিদিনই গাছ চুরি বা পাচার হয়ে থাকে। এ কথায় ধীরে ধীরে উজাড় হয়ে যাচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। উজাড় হয়ে যাওয়ার ফলে প্রকৃতির উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন বনাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, গাছের মোথা আর মোথা। মনে হচ্ছে সদ্য চুরি হয়ে গেছে। এছাড়া চা বাগানগুলোতে ছায়াদানকারী বৃক্ষ পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ এর অর্থকরী ফসলের মধ্যে চা হচ্ছে অন্যতম। চা গাছের জন্য এই ছায়াবৃক্ষ অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু সুযোগ বুঝে সংঘবদ্ধ চোরের যোগসাজসে এসব গাছ পাচার করছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে প্রায়ই গাছ চুরি হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে কম থাকে আবার বেড়ে যায়। এসব গাছ পাচার কাজে যারা জড়িত তারা অধিকাংশই প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত লোক। গত ১২ মে কমলগঞ্জে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামরুল হাসান সুধীবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় গাছ চুরি বন্ধের জন্য মতবিনিময় সভায় বক্তারা জোর দাবী তুলে ধরেন। নিয়মিত বিজিবি বা র‌্যাব বনাঞ্চল এলাকায় টহল দিলে গাছ চুরি অনেকটা রোধ হবে বলে সভায় জানানো হয়। এছাড়া লাউয়াছা জাতীয় উদ্যান থেকে পশু পাখি বের হয়ে যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি একটি বানর গাড়ীর চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়। বনে পশু পাখিদের একমাত্র আবাসস্থল এ জাতীয় উদ্যান নিরাপদ আশ্রয়। এর পূর্বে এভাবে পশু পাখিরা মারা গেছে। যদি উদ্যান এলাকায় তারের বেড়া দেয়া হয় তাহলে পশু পাখিরা রক্ষা পেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে শুক্রবার বিকাল ৫ টায় শমশেরনগর রেল স্টেশনে সিলেটমুখী সুরমা মেইল থেকে চোরাই সেগুন কাঠ উদ্ধার করা হয়। বিকাল সাড়ে চারটায় সিলেটগামী সুরমা মেইল ট্রেন কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেল স্টেশনে এসে থামে। এ সময় চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীরা সিলেট পাচারের জন্য সুরমা মেইলের একটি যাত্রীবাহী বগিতে সেগুন কাঠ তুলেছিল। তাৎক্ষনিকভাবে এ ঘটনার খবর কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মালেকুজ্জামানকে অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি ট্রেনের বগি থেকে কাঠ উদ্ধারে তিনি কোন ভূমিকা পালন করেননি। বিষয়টি জেনে কমলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নির্দেশে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মতিউর ট্রেনের বগি তল্লাশি করে চোরাই সেগুন কাঠ উদ্ধার করেন।

এ ব্যাপারে রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মালেকুজ্জামান বলেন, লোকবল ও পরিবহন সংকটের কারণে তিনি সময়মত তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করতে পারেননি বলে জানান। এছাড়া অচিরেই কমলগঞ্জের করাত কলে অভিযান চালাবেন বলে জানান।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল সহ সকল প্রকার গাছ চুরি রোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইতিমধ্যে শমশেরনগর ও ভানুগাছ রেলষ্টেশন সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে চোরাইা কাঠ উদ্ধার করেছি। গাছ পাচারের সংবাদ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তবে রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তার নিরবতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন বলেও নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।#
রিপোর্ট- প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *