মে ১৬, ২০১৫
Home » জাতীয় » আজ রাত পবিত্র শবে মিরাজ রজনী

আজ রাত পবিত্র শবে মিরাজ রজনী

এইবেলা ডেস্ক, ১৬ মে:-

পবিত্র শবে মিরাজ আজ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঊর্ধ্বলোকে পরিভ্রমণের ঘটনাবহুল ঐতিহাসিক দিন। আজ দিবাগত রাত পেরিয়ে সূর্যাস্তের পর থেকে ভোর পর্যন্ত পবিত্র মিরাজের রাত। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে রাতটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ রাতেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা শরিফ থেকে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সপ্তম আসমান পেরিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাক্ষাৎ লাভ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসেন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজের বিধান এ মহিমান্বিত রাতে নির্ধারিত হয়।
শবে মিরাজ উপলক্ষে মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা দিনটিতে নফল নামাজ আদায় করে থাকেন। অনেকে নফল রোজাও রাখেন। এ রাতে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি করেন মুসলমানরা। দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে রাতটি পার করেন তারা। দান-সদকাও করেন অনেকে।
মিরাজ শব্দ এসেছে আরবি উরুযুন শব্দ থেকে। উরুযুন অর্থ সিঁড়ি আর মিরাজ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। যেহেতু সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠা হয় সেজন্য রাসূলের ঊর্ধ্বগমনকে মিরাজ বলা হয়।
রাসূল (সা.) ২৬ রজব উম্মে হানি বিনতে আবু তালিবের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ জিব্রাইল (আ.) এসে রাসূল (সা.)কে মসজিদুল হারামে নিয়ে যান। যেখানে তার বুক বিদীর্ণ করে জমজম কূপের পানি দিয়ে সিনা মোবারক ধৌত করে শক্তিশালী করেন। তারপর সেখান থেকে তিনি বোরাক নামক এক ঐশী বাহনে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাসে এসে সব নবীর ইমাম হয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। তারপর তিনি বোরাকে চড়ে ঊর্ধ্ব গমন করতে থাকেন। একের পর এক আসমান অতিক্রম করতে থাকেন। পথিমধ্যে হযরত মুসা (আ.)সহ অনেক নবী-রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। সপ্তম আসমানের পর বায়তুল মামুরে গিয়ে জিব্রাইল (আ.)কে রেখে তিনি রফরফ নামক আরেকটি ঐশী বাহনে চড়ে বিশ্ব স্রষ্টা মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হন।
বর্ণনায় আছে, রাসূল (সা.) আল্লাহর এতটা কাছাকাছি গিয়েছিলেন যে দুজনের মধ্যখানে ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল। সেখানে আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চান তিনি আল্লাহর জন্য কি উপহার এনেছেন। তখন রাসূল (সা.) তাশাহূদ পাঠ করেন এবং বলেন, এটি আপনার জন্য উপহার হিসেবে এনেছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিধি-বিধান রাসূলকে উপহার দেন। মিরাজ থেকে আসার পর এ ঘটনার বর্ণনা দেয়া হলে বিনা প্রশ্নে তা বিশ্বাস করেন হযরত আবু বকর (রা.)।
শবে মিরাজ বিশ্বাস করা মুসলমানদের ইমানি দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন আলেমরা।#
uf