- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়ার গৌড়করণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্নীতিবাজ ও লম্পট প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর খুঁটির জোর কোথায়

এইবেলা, কুলাউড়া, ১৮ আগস্ট :: কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুধু উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাৎই করেননি। করেছেন পুকুর চুরি। সরেজমিন তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এমন চিত্র। তারপরও বহাল তবিয়তে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন তার খুটির জোর কোথায়? ইতিপূর্বে ২০০৮ সালে রাঙ্ছিড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিকালে এক স্কুল ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে ছাত্রীটিকে গর্ভবতী করার দায়ে এক বছর চাকুরি থেকে অব্যাহতি পান।

jahangirসরেজমিন তদন্তকালে গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গির আলমের উপবৃত্তির টাকা পুকুর চুরির তথ্য বেরিয়ে আসে। কোরবানপুর গ্রামের অসহায় আব্দুল মতির হেলন বেগম দম্পতির ৪ সন্তান পড়েন স্কুলে। এরমধ্যে তানিম আহমদ ৫ম শ্রেণিতে, তাহের মিয়া ২য় শ্রেণিতে, আঞ্জির ও তাঞ্জির ১ম শ্রেণিতে পড়েন। এই চার শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে মাত্র ১০৫০ টাকা। একই গ্রামের লেবু মিয়া ও পারভীন বেগম দম্পতির ২ সন্তান পড়েন স্কুলে। ৫ম শ্রেণিতে পড়েন সাইফুর রহমান ও ৪র্থ শ্রেণিতে পড়েন রহিমা বেগম। উপবৃত্তি প্রদানের পর তাদের কোন টাকা দেয়া হয়নি। ৩দি তিনি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর ২ শিক্ষার্থীর মাকে মাত্র ৩০০ টাকা দেয়া হয়। মাছুমা বেগম  ও রমযান আলী দম্পতির ২ সন্তান পড়েন বিদ্যালয়ে। জয়নুল আহমদ ৪র্থ শ্রেণিতে ও জহির আহমদ ১ম শ্রেণিতে। তাদের উপবৃত্তি হিসেবে দেয়া হযেছে ৩০০ টাকা। গৌড়করণ গ্রামের সাজেদা খাতুনের মেয়ে মাসুদা তাসনিম রুমা পড়েন ৩য় শ্রেণিতে। উপবৃত্তি হিসেবে পেয়েছেন ৬০০ টাকা।

এভাবে সরেজমিন বিভিন্ন গ্রামে গেলে পুকুর চুরির খবর পাওয়া গেছে। এই জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী ২০১০ সালে গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। বিদ্যালয়ে প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০১৬ সালে ছবি সংযুক্ত করায় বাড়তি শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি টাকা উত্তোলন করতে না পেরে শতভাগ চাহিদা জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। চাহিদাপত্রে জালিয়াতির প্রমাণ ইতোমধ্যে শিক্ষা অফিসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে ধরা পড়েছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্র জানিয়েছে।

দুর্নীতিবাজ ও লম্পট এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ক্ষোভ বাড়ছে। উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমানিত হওয়ার পরও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করায় হতবাক। এলাকাবাসীর দাবি তাকে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে তদন্ত করার। তাহলে বেরিয়ে আসবে তার কুকর্মের অনেক কাহিনী।

এদিকে দুর্নীতিবাজ ও লম্পট প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী নিজের অপকর্ম আড়াল করতে কৌশলের পথ বেছে নিয়েছে। ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সে নিজে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ১৫, ১৬ ও ১৭ আগস্ট ৩টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তার এধরনের হীনমন্যতায় বিদ্যালয়ের শিক্ষদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০ আগস্ট ঘটনার তদন্ত হতে পারে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *