অক্টোবর ১৮, ২০১৬
Home » জাতীয় » সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যা মামলা : ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যা মামলা : ফের তদন্তের নির্দেশ আদালতের

এইবেলা, সিলেট, ১৮ অক্টোবর :: সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে ফের তদন্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

১৮ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে সিলেটের তৃতীয় মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২৮ আগস্ট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে এ চার্জশিট প্রদান করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক আরমান আলী।

অভিযোগপত্রে ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীসহ ১১ জনকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছিল সিআইডি।

আদালতের এপিপি খোকন কুমার দত্ত বলেন, অভিযোগপত্রে ত্রুটি থাকায় আদালত শুনানি শেষে পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব ফালজুড় গ্রামের হাফিজ মঈনউদ্দিনের ছেলে মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহি ওরফে এবি মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে ইবনে মঈন, একই উপজেলার ফালজুড় গ্রামের জমসেদ আলীর ছেলে আবুল হোসেন ওরফে আবুল হোসাইন, খালপাড় তালবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রবের ছেলে ফয়সাল আহমদ, ফায়জুল গ্রামের মৃত জোয়াদুর রহমানের ছেলে আবুল খায়ের রশেদ আহমদ ও সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার বীরেন্দ্রনগর বাগলী গ্রামের মো. আমির উদ্দিনের ছেলে হারুনুর রশিদকে।

অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন- বিমান বন্দর থানার মো. ইলিয়াছ আলীর ছেলে ও স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেটের আলোকচিত্রী মো. ইদ্রিছ আলী, কানাইঘাট থানার পূর্ব ফালজুড় গ্রামের হাফিজ মঈনউদ্দিনের ছেলে মোহাইমিন নোমান, লক্ষিপুর জেলার রামগঞ্জ থানার রমনপুর জমাদার বাড়ির মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাদেক আলী মিঠু, যশোর জেলার কোতয়ালী থানার এসএমএ করিম রোডের মৃত এএফ রশিদুর রহমানের ছেলে মো. তৌহিদুর রহমান গামা, ঢাকা মিরপুর থানার সন্তোষপুর এর মৃত জব্বার মল্লিকের ছেলে আমিনুল মল্লিক, যাত্রাবাড়ি থানার দক্ষিণ কাজলার মইনউদ্দিনের ছেলে জাকিরুল্লাহ হাসান, পল্লবী থানার বাউনিয়াবাদ কলোনী বিল্ডিং এর তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরফান মুসফিক, বাগেরহাটের গোয়াখালি গ্রামের রেজাউল কবির বিশ্বাসের ছেলে জুলহাস বিশ্বাস, নওগা জেলার মহাদেবপুরের ডা. আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে জাফরান হাসান, বরুগুনার হেউলিবুনিয়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আবুল বাশার, বিবাড়িয়ার কালীশ্রী পাড়ার মৃত ফৈরদস-উর-রহমানের ছেলে সাফিউর রহমান ফারাবি।

গত বছরের ১২ মে সকালে সিলেট নগরীর সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার নূরানী দিঘীর দক্ষিণ কোনে কুপিয়ে খুন করা হয় মুক্তমনা ব্লগার ও ব্যাংকার অনন্ত বিজয় দাসকে। তিনি নূরানী ১৩/১২ নং বাসার বাসিন্দা রবীন্দ্র কুমার দাসের ছেলে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই রতেœশ্বর দাস বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় ওই দিন রাতেই চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরুল আলম প্রথমে মামলার তদন্ত করেন। পরে আলোচিত মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করে।

তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরমান আলী। তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন তিনি।

এ ঘটনায় গত বছরের ৭ জুন স্থানীয় একটি পত্রিকার ফটোসাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৮ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি। একই বছরের ২৯ আগস্ট সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব পালজুর গ্রাম থেকে মান্নান রাহী ও তার ভাই মোহাইমিন নোমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে আবুল খায়ের নামের তাদের আরেক সহযোগীকেও গ্রেফতার করে সিআইডি। গত ৫ মে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্তি লাভ করেন নোমান ও রশীদ। যদিও ওইদিনই একটি নাশকতা মামলায় তাদের ফের গ্রেফতার করে পুলিশ।

রাহি আদালতে অনন্ত হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

এছাড়া ঢাকায় অভিজিৎ হত্যা মামলায় গ্রেফতার মো. তৌহিদুর রহমান, আমিনুল মল্লিক, আরিফুল ইসলাম, জাকিরুল প্রকাশ, সাদেক আলী মিঠু ও জাফরান হাসানকেও এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।#