- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

নয় কোটি স্মার্টকার্ডের দেড় কোটিতেই ভুল!

এইবেলা ডেস্ক, ২৬ অক্টোবর:: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্মার্টকার্ডকে অত্যাধুনিক ও বহুমাত্রিক তথ্যসমৃদ্ধ বলে দাবি করা হলেও প্রকৃত চিত্র একেবারেই উল্টো বলে অভিযোগ উঠেছে। কার্ডে ব্যবহৃত ছবি নিয়ে ৯০ ভাগ ভোটারই অসন্তুষ্ট। এ ছাড়া অধিকাংশ কার্ডেই রয়েছে অসংখ্য ভুল। আঙ্গুলের ছাপ না মেলা, স্থানান্তরিত ভোটার, অপূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ঠিকানা, কারিগরি ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা তো রয়েছেই।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৯ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি ভোটারের স্মার্টকার্ডে ভুল রয়েছে। এসব কার্ড হাতে পাওয়ার পর নাগরিকদের সুবিধাদি ভোগ করা তো দূরে থাক, অসুবিধাটাই হবে বেশি। পোহাতে হবে ভোগান্তি।

ইসি সংশ্লিষ্টরা কার্ডে পরিলক্ষিত বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শুরুতে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। আঙ্গুলের ছাপ না মেলা, স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ না করা, নিবন্ধন ফর্মের প্রয়োজনীয় তথ্য কম্পিউটারে না থাকা এবং ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করায় অনেকে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েও কার্ড নিতে পারছেন না।

ইসি জানায়, কারিগরি ত্রুটি হলে বা কারো কার্ড প্রিন্ট হয়ে না এলে বা খুঁজে পেতে বিলম্ব হলে আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ নম্বর রেখে দেয়া হচ্ছে। পরে তাদের কাছে কার্ড পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আইডিইএ প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের জুন মাসের মধ্যে সাড়ে ৯ কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেয়ার কথা ছিল। এ জন্য উৎপাদন শুরুর কথা ছিল ২০১৪ সালের আগস্টেই। কিন্তু কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি না হওয়ার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়নি। ২০১৫ সালে ১৪ জানুয়ারিতে স্মার্টকার্ড তৈরি ও বিতরণের বিষয়ে ফ্রান্সের ওবার্থার টেকনোলজিস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইসি। সেই চুক্তি অনুযায়ী, স্মার্টকার্ড উৎপাদনের জন্য ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১০টি মেশিন বসানো শুরু হয় এনআইডি উইংয়ে। এর পরেই এনআইডি চিপে তথ্য পার্সোনালাইজেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ডিসেম্বরে স্মার্টকার্ড উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। আর চলতি বছরের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয় সীমিত আকারে বিতরণ কার্যক্রম। পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড ও কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড়ায় উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) বিতরণ শুরু করে ইসি। অনেক আগ্রহ নিয়ে ভোটাররা কার্ড সংগ্রহে এলেও এটি হাতে পেয়েই উবে যায় সব আগ্রহ।

সূত্রমতে, গত কয়েক দিনে যে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে সেখানে অসংখ্য ভুল লক্ষ্য করা গেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, নির্বাচন কমিশনের স্মার্টকার্ড বিতরণে নেই কোনো তথ্যকেন্দ্র। আর যোগাযোগের যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে, সেখানে গিয়েও গ্রাহক বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। রাজধানীর উত্তরা ও রমনা থানার একাধিক ভোটার অভিযোগ করে বলেন, স্মার্টকার্ডে আনস্মার্ট ছবি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অধিকাংশ ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি আট-নয় বছর আগের। বর্তমান কার্ডটির মেয়াদও ১০ বছর। সেই হিসাবে আট-নয় বছর আগের এই ছবিটি আরো ১০ বছর থাকবে। তাছাড়া আগে ওয়েব ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে সময় বেশির ভাগ নাগরিকের ছবি ভালো হয়নি। তাই যারা স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন, তাদের অনেকেই মনে করছেন ছবিটি নতুন করে তুলে দেয়া হলে ভালো হতো।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ১০৫ হেল্প ডেস্কে ডায়াল করেও মিলছে না স্মার্ট কার্ড তথা জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কোনো তথ্য। ওয়েবসাইটও ঠিক তথ্য দিতে পারছে না বলেই ভোটারদের অনেকে দাবি করেছেন।
এসব বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান সালেহ উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, কিছু ভুল ত্রুটি থাকলেও এ কার্ডে অনেক আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, বিতরণ ব্যবস্থায় যে ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামীতে সমস্যাগুলো অনেক কমে আসবে।

উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ে ৩ অক্টোবর স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ও কুড়িগ্রামে। দ্বিতীয় পর্যায়ে বিতরণ করা হবে খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায়। তবে এখনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত করেনি ইসি। তৃতীয় পর্যায়ে ৬৪টি সদর উপজেলা এবং চতুর্থ পর্যায়ে বাকি সব উপজেলায় দেশজুড়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *