নভেম্বর ২, ২০১৬
Home » জাতীয় » মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় হাজতে থাকা ৩ ব্যক্তির পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় হাজতে থাকা ৩ ব্যক্তির পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

এইবেলা, কুলাউড়া, ০২ অক্টোবর:: কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে দুটি পরিবারের মধ্যে। শালিস বৈঠকে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু জমির দর কষাকষিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তিতে অর্থশালী প্রতিপক্ষ আদালতে ৮লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করলে ৩জনকে আটক করে পুলিশ জেল হাজতে প্রেরণ করে। আটককৃতরা নিরীহ ও দিনমজুর। গত একমাস থেকে জেলহাজতে বন্দি থাকায় আটক ৩ ব্যক্তির পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গেলে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গুতগুতি এলাকায় ৩৩ শতাংশ মৌরশী সম্পত্তি নিয়ে মৃত হাজির উদ্দিন ও মৃত ইউনুছ উদ্দিনের দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। সর্বশেষ হালনাগাদ সেটেলমেন্ট জরিপে মাঠ পর্চায়, তসদিককৃত মাঠ পর্চায় ও ৩০ ধারায় আপিল মামলায়ও উক্ত জমিটি মৃত হাজির উদ্দিনের নামে রেকর্ড হয় এবং তা বহাল আছে। এমতাবস্থায় মৃত হাজির উদ্দিনের উত্তরাধিকারীগণ উক্ত জমিতে কৃষি কাজ করতে গেলে মৃত ইউনুছ উদ্দিনের উত্তরাধিকারীগণ তাতে বাঁধা দেন।

এনিয়ে সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, মেম্বার রফিউল্লাহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে শালিস অনুষ্ঠিত হয়। শালিসগণ ৩ লাখ টাকা নিয়ে উক্ত জমির দাবি ছেড়ে দেয়ার জন্য মৃত হাজির উদ্দিনের উত্তরাধিকারী নজির উদ্দিন ও তার ভাই মোস্তাক উদ্দিনকে অনুরোধ করেন। তারা ৩ লাখ টাকা নয় উক্ত জমির মুল্য বাবত ৮ লাখ টাকা অথবা জমি তাদের দখলে রাখেন। শালিসের পর জমিটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মেম্বার তাদের নিয়ন্ত্রণে নেন। জমির ধান কেটে নেন এবং পরবর্তিতে জমি রোপনও করেন।

এদিকে মৃত ইউনুছ উদ্দিনের উত্তরাধিকারী শেলি বেগম শালিসে সিদ্ধান্ত না হওয়ার সুযোগে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেটে আদালতে ৮ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আপন চাচাতো ভাই নাজির উদ্দিনসহ ৫ জনের একটি অভিযোগ (নং ২৫৬/১৬, তাং ১০-০৭-১৬) দায়ের করেন। আদালত তদন্তক্রমে রিপোর্ট প্রদানের জন্য কুলাউড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে কুলাউড়া থানার এসআই নুর হোসেন জমিজসা সংক্রান্ত বিরোধ উল্লেখ করলেও ৮ লাখ চাঁদা দাবির কথা উল্লেখ করেন। এতে আদালত নাজির উদ্দিনসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশ নাজির উদ্দিন, মোস্তাক উদ্দিন ও রেজাউল মিয়াকে আটক করে। গ্রেফতারে এক মাসের বেশি সময় থেকে আদালতে বন্দি। পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী জেলহাজতে থাকায় ওই ৩ পরিবারে স্ত্রী সন্তানসহ ১৪জন মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এলাকার প্রবীণ মুরুব্বী রাজা মিয়া (৭১), শের আলী (৮০), ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল মুকিত (৬৬), আছদ্দর আলী (৭৫), মিয়াজান (৭০), কুটি মিয়া (৫০), ইসলাম মিয়া (৪৫), মনছব মিয়া (৪৫) জানান, এরা দিনমজুর মানুষ। পাহাড় থেকে কাঠ এনে বাজারে বিক্রি করে কিংবা স্থানীয় লোকজনের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ৮লাখ টাকা চাঁদাদাবি করার মত সাহস বা ক্ষমতা তাদের কারো নেই।

সদর ইউপি মেম্বার রফি উল্লাহ জানান, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি আমার অধীনে আছে। একবার পাকা ধান কাটাইছি আবার রোপনও করাইছি। চাঁদাদাবির বিষয়টির সত্য মিথ্যা বলতে পারি না। সেটা শেলি বেগম সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের কাছে বলেছে।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে দেওয়ানী আদালতে অভিযোগ দেয়ার কথা কিন্তু তা না দিয়ে ফৌজদারি মামলা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত শেলি বেগম বলেন, আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য আমি ফৌজদারি কার্যবিধিতে অভিযোগ করি।

কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান জানান, বিরোধকৃত জমিতে ৩ ডেসিমেল জায়গা পাবে নাজির উদ্দিনও তার সহযোগিরা। আমি বিচার করে ৩ লাখ টাকা দেয়ার রায় দেই। তারা তা না মেনে ৮ লাখ টাকা দাবি করে। এটা চাঁদাবাজি।#