নভেম্বর ৬, ২০১৬
Home » জাতীয় » কুলাউড়ায় এক স্কুল ছাত্রকে শ্রেণিকক্ষে বেধড়ক পেটালেন ইউপি মেম্বার

কুলাউড়ায় এক স্কুল ছাত্রকে শ্রেণিকক্ষে বেধড়ক পেটালেন ইউপি মেম্বার

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৬ নভেম্বর ::  কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের রাউৎগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ডুকে গত বৃহস্পতিবার ০৩ নভেম্বর ২য় শ্রেণির ছাত্র জাবেল মিয়াকে বেধড়ক পেটালেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোস্তাফিজুর রহমান কেরামত। এঘটনায় গত ২দিন থেকে ভয়ে স্কুলে যাচ্ছে না ওই ছাত্র। সোমবার ০৭ নভেম্বর বিষয়টি সালিশে নিষ্পত্তির জন্য স্কুল কমিটির সভাপতি বৈঠক ডেকেছেন।

স্থানীয় লোকজন ও নির্যাতিত স্কুল ছাত্রের মা আয়েশা আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে ইউপি মেম্বার মোস্তাফিজুর রহমান কেরামত বিদ্যালয়ে এসে কাউকে কিছু না বলে জাবেল মিয়াকে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন। এঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হতবাক হয়ে পড়েন। জাবেল মিয়াকে মারপিট করতে করতে এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে নিয়ে যান। শিক্ষকরা এসময় বাধা দিলে কাউকে কিছু না বলে তিনি বেরিয়ে যান। তার মারপিটে জাবেল মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন স্থানীয় ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেন।

জানা যায়, ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে জাবেল মিয়া তার সহপাঠি কেরামত মেম্বারের মেয়ে স্বর্ণার সাথে ঝগড়া হয়। বিষয়টি শিক্ষকদের না বলে স্বর্ণা তার বাবা কাছে নালিশ করে। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ে এসে জাবেল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন।

জাবেল মিয়ার মা আয়েশা আক্তার আরও জানান, মারপিটের পর থেকে সে মানসিকভাবে বিপযস্ত। মাথা ও কানে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছে। ভয়ে আর স্কুলে যেতে চাচ্ছে না। বিষয়টি আমি বরমচাল ইউপির চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি কিন্তু তিনি তা সুরাহা করার কোন উদ্যোগ নেন নি।

ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন নাহার বেগম প্রশিক্ষণের জন্য কুলাউড়ায় থাকায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে এ ঘটনায় অভিভাবক মহলে ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, ওই মেম্বার এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করছেন না।

অভিযুক্ত মেম্বারের সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ ব্যাপারে কোন কথা বলেন নি।

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শরিফ উল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি জেনেছেন।  সোমবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিষয়টি আপোষ-নিষ্পত্তি করার কথা। আপোষে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে আমরা পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।#