নভেম্বর ১৬, ২০১৬
Home » জাতীয় » রাজনগরে ডাকাতি বৃদ্ধি জনমনে আতঙ্ক

রাজনগরে ডাকাতি বৃদ্ধি জনমনে আতঙ্ক

এইবেলা, রাজনগর, ১৬ নভেম্বর :: মৌলভীবাজারের রাজনগরে বেশ কয়েকদিন ধরে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। চোরের দল বিভিন্ন বাড়ির গ্রিল কেটে ও দরজার তালা ভেঙে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। চুরি হয়ে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। এছাড়াও শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ডাকাতি শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তকে বেশ কয়েকজন ডাকাত ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়ায় চুরি-ডাকাতি কমে যাবে বলে মনে করছেন রাজনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিনে রাজনগর উপজেলার প্রেমনগর, মালিকোনা, খারপাড়া, বাজুয়া, ক্ষেমসহস্র, কর্ণিগ্রাম, হারিরাঐ, ভূমিউড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা বিভিন্ন বাড়ির দরজা ও গ্রিল কেটে নগদ টাকা, স্বর্ণ, মোটরসাইকেল, সিএনজিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। গত রোববার (১৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের হাজী আজির উদ্দীনের বাড়ির সামনের ঘরে একদল চোর হানা দেয়। ঘরে কেউ না থাকার সুবাদে চোরেরা নগদ ১০ হাজার টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ১টি কম্পিউটারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। এর আগে ৬ই নভেম্বর উপজেলার কর্ণি গ্রামের ইংল্যান্ড প্রবাসী মুজিব খানের বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ওই বাড়ি থেকে ডাকাতরা নগদ ২০ হাজার টাকা, ৬-৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ চুরির মামলা গ্রহণ করে। একই রাতে উপজেলার ক্ষেমসহস্র গ্রামে রতিশ মিত্রের বাড়িতে একদল চোর হানা দেয়। বাড়ির লোকজন জেগে যাওয়ায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তারা। এর কয়েকদিন আগে ২৮শে অক্টোবর গভীর রাতে ১৪-১৫ জন ডাকাত আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাজনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজমা বেগমের বাসা থেকে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

এর আগে ১৮ অক্টোবর খারপাড়া গ্রামের মজমিল মিয়ার বাড়িতে একদল চোর হানা দেয়। তার ঘর থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে যায় চোরেরা। একই রাতে ওই গ্রামের নূর মিয়ার ঘরের দরজা ভেঙে নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোর। পরে চোরেরা মাওলানা হাবিবুর রহমানের বাড়ির গ্রিলের তালা কেটে ঘরে ঢুকলে লোকজন ঘুম থেকে জেগে যাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। মনসুরনগর ইউনিয়নের মালিকোনা গ্রামে বেশ কয়েকদিন থেকে কৃষকদের গরু-মহিষ চুরি হয়ে যাচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে লোকজন পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

এ ব্যাপারে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক মানবজমিনকে বলেন, আসলে শীত মৌসুমে চোরের উপদ্রব বেড়ে যায়। আমরা চেষ্টা করছি ডাকাতদের গ্রেপ্তার করতে। জেলা প্রশাসকের বাসার ডাকাতির ঘটনায়ও আমি বেশ কয়েকজন ডাকাতকে আটক করেছি। বিভিন্ন এলাকায় পাহারা দেয়ার জন্য মিটিংও করে যাচ্ছি।#