- আন্তর্জাতিক, নির্বাচিত, ব্রেকিং নিউজ, স্লাইডার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে আমাদের রাজনৈতিক নেতা নেত্রীর জ্ঞাতার্থে

আফাজুর রহমান চৌধুরী (ফাহাদ), ২১ নভেম্বর :: সদ্যসমাপ্ত  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ছিল একটি অদ্ভুত একটি নির্বাচন। নির্বাচনি প্রচারনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন বিতর্কিত । দলীয় নেতাকমী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের রোষানলে পড়েন রিপালিকান এই প্রার্থী। শেষ দিকে মুসলিম বিদ্দেশী নানা কথা ও নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হাওয়ার পর অনেকটা কোনঠাষা হয়ে পড়েন তিনি। বারাক ওবামা সম্পর্কে ও নানা খারাপ মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন শুরু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, তিনি বিশ্বে জনপ্রিয় নেত্রী ছিলেন। তার পরাজয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া । যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এখনও চলছে ট্রাম্প বিরোধী মিছিল। এতে সাধারণ মানুষসহ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা যোগ দিচ্ছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম। হিলারি ছিলেন পাকা একজন রাজনীতিবীদ । তার কর্মদক্ষতা আজ তাকে বিশ্বনেত্রীতে অদিষ্টিত করেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সকল মানুষের ধারণা ছিল তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কিন্তু সকল আলোচনা ও বিতর্কের অবসান করে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোলান্ড ট্রাম্প হলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ তম নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। অনেকে মনে করেন ট্রাম্প রাজনীতি জাননে না। বিশ্লেষকদের বর্ণনা অনুযায়ী ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে, মুসলমান বিদ্দেশী কথা, নতুন ইমিগ্রেশন আইন, আদিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা ও বারাক ওবামা সম্পর্কে নানা ধরনের খারাপ মন্তব্য করে বিশ্ব পরিসরে বির্তকিত  হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মন ঠিকই জয় করেছেন। তাই তিনি একজন পাক্ষা রাজনীতিবীদ। বিশ্লেষকরা মনে করেন ট্রাম্পের এ ধরনের উগ্র কথাবার্তা ছিল, নির্বাচনে জয় লাভের একটা  এজেন্ডা। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে বাসবাসরত মানুষের মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষই মুসলমান বিদ্দেশী ও অদিবাসী  বিদ্দেশী । আর ডোলান্ড ট্রাম্প এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন।

নির্বাচনে জয় লাভের পর ডোলান্ড ট্রাম্প সকল বিদ্দেশমূলক কথাবার্তা পরিহার করে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার কাজ করার আগ্রহ পোষণ করেছেন। ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওভাব অফিসে বারাক ওবামা ও ডোলান্ড ট্রাম্প এর বৈঠক অনুষ্টিত হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস জানিয়েছে বৈঠকটি ১০-১৫ মিনিট হওয়ার কাথা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত ৯০ মিনিট গড়ায়। হোয়াইট হাউসের এই বৈঠকে প্রশাসনিক কাজ ও ভবিষ্যতের কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন ওবামা খুব ভাল একজন মানুষ । ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ওবামার আর পরামর্শ তিনি গ্রহন করবেন। বারাক ওবামা ও সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে দারুন আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের আগ্রহকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের এই বিক্ষোভকে ট্রাম্প নিজেই স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন নির্বাচনের পর যারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে তারা দেশের প্রতি ভালবাসা ও আবেগ থেকেই এমনটি করছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদন ও ট্রাম্প এর টুইট বার্তা থেকে এমন তত্ত্ব জানা যায়।

আমরা আশাবাদী ট্রাম্প ও হিলারী ক্লিনটনের নির্বাচ এবং নির্বাচনোত্তর ট্রাম্প ও ওবামার সম্পর্ক থেকে বাংলাদেশী রাজনীতিবিদরা যদি কিছুটা গ্রহণ করেন, তাহলে আগামীতে বাংলাদেশের রাজনীতিক অঙ্গনে শান্তির সুবাতাস বইবে। নয়তো জ্বালাও পোড়াও আর একক ক্ষমতা দখলের সংস্কৃতির ধারা অব্যাহত থাকবে।#

লেখক- প্রভাষক, ইয়াকুব তাজুল মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কুলাউড়া।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *