মে ২৭, ২০১৫
Home » সিলেট » সিলেটে নারী কেলেঙ্কারীর হোতা প্রতারক হাবিব

সিলেটে নারী কেলেঙ্কারীর হোতা প্রতারক হাবিব

এইবেলা, সিলেট ২৭ মে :- সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইলেকট্টিক শাখার ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী মোশারফ হোসেন ওরফে ভূয়া নামধীরী প্রতারক হাবিব এর নারী ঘটিত বিষয়ে একের পর এক নারীর সঙ্গে প্রতারণা ও নারী কেলেঙ্কারীর মুখোশ খুলেছে।
জানা যায়, কখনো সে সিটি কর্পোরেশনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং কখনো তার সিলেট নগরীর মীরের ময়দান এলাকায় বিলাশবহুল বাড়ী ও গাড়ি আছে বলে পরিচয় দিয়ে নারীদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং হাতিয়ে নেয় নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার। প্রতারণার শিকার অনেক মেয়ে এযাবৎ কাল হয়তো নিজ আত্মসম্মানে ও প্রতারকের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। কিন্তু প্রতারক হাবিব কর্তৃক প্রতারিত নগরীর ঘাসিটুলা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি মেয়ে আর বসে নেই। সে প্রতারক হাবিব কর্তৃক প্রতারণার শিকার হয়ে অবশেষে মুখ খুলেছে। তিনি প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনী সহায়তাসহ সার্বিক সহায়তা চেয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় প্রেসিডেন্ট বরাবর একটি আবেদন করেছেন।
আবেদন কর্তৃক জানা যায়, দীর্ঘ ৪ বছর পূর্বে ইউ.এন.ডি.পি-তে কাজ করার সুবাদে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কোন মেলাতে ভূয়া নামধারী হাবিবের সাথে তার পরিচিতি হয়। এরপরেই ফোনে কথা অতপর প্রেম। মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদের ফেলানোর জন্য প্রতারক নিজের নাম গোপন রেখে হাবিব নামে পরিচিত হয় এবং নিজের সম্বন্ধে বলেন, তারা ৪ ভাই, ২ ভাই লন্ডন প্রবাসী, বাবা ও মা উভয়েই সরকারী চাকুরীজীবি, নগরীর মীরের ময়দানে রয়েছে তাদের নিজস্ব বিলাসবহুল বাড়ি, রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়িও। নিজেও সিটি কর্পোরেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কয়েকটা ব্যাংকেও রয়েছে ব্যাংক এ্যাকাউন্টস। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনিই বড়। কোন ভাই এখনও বিবাহ করেন নাই। ব্যাস- মেয়েটাও আত্মবিশ্বাসে পটে যায় তার প্রেমে চলতে থাকে তাদের প্রেম। প্রতারক হাবিব দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইতিপূর্বে জায়গা ক্রয়সহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মেয়েটির নিকট হতে প্রায় ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন সময় তারা নগরীর পর্যটনসহ অনেক জায়গায় ঘুরতে গিয়ে সময় কাটিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কিছু দিন পূর্বে মেয়েটি অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়ে। অতপর ভুলিয়ে-ভালিয়ে খুব শীঘ্রই বিয়ে করব, এছাড়াও অনেক ভয়ভীতি সহ চাপ সৃষ্টি করে মেয়েটির গর্ভ নষ্ট করতে বাধ্য করে। এরপর প্রতারক বিয়ে করব করছি বলে কাটিয়ে দেয় আরো কিছুদিন। ইতোমধ্যে মেয়েটি পুনরায় অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রতারককে জানালে প্রতারক সরাসরি মেয়েটিকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং আবারও গর্ভ নষ্ট করার জন্য চাপ দেয়। এতে তার আর বুঝতে বাকী নেই যে, ছেলেটি তাকে বিয়ে করবে না। উপায়ান্ত না পেয়ে মেয়েটি মানবাধিকার সংস্থার শরণাপন্ন হন। সংস্থার পক্ষ হতে মেয়েটির গর্ভের অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ও.সি.সি শাখায় ভর্তি করা হয়। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী তার গর্ভের অবস্থা নিশ্চিত হয়ে সংস্থার পক্ষ হতে প্রতারকের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য একটি প্রতিনিধি দল সিলেট সিটি কর্পোরেশনে যায়। বেরিয়ে আসে প্রতারক হাবিবে মূল তথ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কর্পোরেশনের জনৈক কর্মকর্তা জানান, প্রকৃতপক্ষে তার নাম মোশারফ হোসেন জনি। সে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ইলেকট্টিক বিভাগের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী। দীর্ঘ ৮-১০ বছর পূর্বে বিয়ে করেছেন। ফুটফুটে ৭ বছরের একটি মেয়ে ও ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। নগরীর সিটি কর্পোরেশন স্টাফ কোয়ার্টারের একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে তার বসবাস। এটাই হাবিবে মূল পরিচয়। বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে জানাজানি হলে বেরিয়ে আসে আরোও অজানা অনেক কাহিনী। প্রতারক হাবিব এর মূল বাড়ি সিলেট শহরের বাইরে। বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে তাদের স্থায়ী বসবাস। নানা বাড়ি সিলেট মীরের ময়দানে। নানীর সম্পত্তি প্রতারণা করে ভোগ দখল করার উদ্দেশ্যে তারা কোন এক সময়ে সিলেটে নানা বাড়ী আশ্রয় নেন। প্রতারণা করে তারা সম্পদ লুটে নিতে স্বার্থক হয় কিন্তু ঐ সম্পত্তি স্থায়ী হয়নি। প্রতারক হাবিবের স্ত্রীর সম্পর্কে খবর নিয়ে জানা যায়, তার সাথেও বিবাহের পূর্বে অনেক ধরনের অঘটন ঘটেছিল। অপ্রাপ্ত বয়স্কা ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের সম্মান রক্ষার্থে প্রতারক হাবিবের সাথে বিয়ে দেন। এসময় ছেলের বিবাহ সংক্রান্ত কর্মকান্ড প্রতারকের মা-বাবাও অনেক লাঞ্চিত হয়েছে।
সংস্থার পক্ষ হতে সত্য তথ্য যাচাইয়ে স্বার্থে প্রতারক হাবিবের স্ত্রীর শরণাপন্ন হলে জুলি ও তার পরিবার বিষয়টি অবগত হয়। পরবর্তীতে প্রতারক হাবিবের স্ত্রী জুলি, শ্বশুড়-শাশুড়ী, ভাই সানোয়ার হোসেন এবং মনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য লোকদের নিয়ে ঘাসিটুলা মেয়েটির বিষয়ে আপোষে তাকে প্রথম স্ত্রীর জুলির অনুমতিক্রমে ২য় বিবাহ করেন এবং ১ম স্ত্রী জুলেখা বেগম নিজে উপস্থিত থেকে স্ব ইচ্ছায় লিখিত অনুমতি দিয়ে স্বামীকে ২য় বিবাহ সম্পাদন করান। বিবাহ শেষে মোশারফ হোসেন জনি তার ২য় স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান। বিবাহকালীন সময়ে মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী ২য় স্ত্রী ৭ সপ্তাহ অন্ত:সত্তা ছিলেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আসক ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় প্রেসিডেন্ট রকিব আল মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উক্ত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনা ঘটেছে সত্য এবং মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী ২য় স্ত্রী ৭ সপ্তাহ অন্ত:সত্তা রয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে তারা উভয় পক্ষ নিজেরাই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আপোষ সমাধান করে নিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে এই ঘটনা হতে শিক্ষা নিয়ে প্রত্যেক নারী ও পুরুষের সচেতন হওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, আমরা যেন কেউ প্রতারণা না করি ও প্রতারণার স্বীকার না হই এবং যদি কেউ প্রতারণা করেন তা যেন আমরা সম্মিলিত ভাবে প্রতিরোধ করি।

উক্ত বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন সহ বিভিন্ন এলাকায় আলোচনার ঝড় বয়েছে। সচেতন মহল ঘটনার মূল হোতা ভূয়া নামধারী প্রতারক হাবিবকে তীব্র নিন্দা জানান।#