নভেম্বর ২৩, ২০১৬
Home » আন্তর্জাতিক » লন্ডনে ‌সেচ্ছা‌সেবক দ‌লের রাজনৈতিক কর্মশালা : দর্শক সা‌রি‌তে তা‌রেক

লন্ডনে ‌সেচ্ছা‌সেবক দ‌লের রাজনৈতিক কর্মশালা : দর্শক সা‌রি‌তে তা‌রেক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রিটেন, ২৩ নভেম্বর :: যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মশালায় বিশিষ্টজনরা বলেছেন, বাংলাদেশ ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অবিচ্ছেদ্য ও অবিনশ্বর। বাংলাদেশ যতোদিন থাকবে জিয়াউর রহমানের নাম ততোদিন সমস্বরে উচ্চারিত হবে। তার কৃতিত্বই তাকে মহানায়কের আসনে আসীন করেছে। দেশে দেশে জাতীয়তাবাদের উত্থান হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিএনপির নেতৃত্বে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

স্থানীয় সময় সোমবার বিকালে পূর্ব লন্ডনের রিজেন্ট বেঙ্কুয়েটিং হলে আয়োজিত এক কর্মশালায় যোগ দেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তিনি দর্শক সারিতে বসে প্যানেল আলোচকদের বক্তৃতা শোনেন। এর অা‌গে গত সাত ন‌ভেম্বর যুক্তরাজ্য বিএন‌পির সভায় প্রধান অ‌তি‌থি হি‌সে‌বে যোগ দেবার কথা থাক‌লেও শেষ পর্যন্ত ঐ সভা‌তেও যোগ দেন‌নি তা‌রেক।

যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমেদ শাহীনের সভাপতিত্বে দুই পর্বের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসাইন। দ্বিতীয় পর্বে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

fb-2

প্রফেসর ড. কেএমএ মালেক বলেন, জাতীয়তাবাদী দর্শনের কারণেই বিএনপিকে যেমন নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে, তেমনি এই আদর্শের কারণেই অচিরেই বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। এখন পৃথিবীর দেশে দেশে জাতীয়তাবাদের জাগরণ ঘটছে। প্রায় চার দশক আগে আমাদের দেশে এ জাগরণের সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার মহান ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করে তিনি যেমন আমাদের ভূখণ্ড ছিনিয়ে এনেছিলেন তেমনি নির্মাণ করেছেন আমাদের জাতীয় পরিচয় বাংলাদেশি।

তিনি বলেন, যে দর্শনের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মানুষের আশা আকাঙ্খাকে বাস্তবায়ন করে চলেছে ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে ক্ষমতা থেকে দূরে থাকলেও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দর্শন দেশের বেশিরভাগ মানুষের ভিতের বিস্তৃত।

শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতিতে বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রফেসর ড. হাসনাত হোসাইন এমবিই বলেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অসামান্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিক্ষা ও সামাজিক প্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নতি বিএনপি সরকারই নিশ্চিত করতে পেরেছে। এসকল ক্ষেত্রে শহীদ জিয়ার অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শকে আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করবেন।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে তার গবেষণালব্দ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বলেন, তিনটি কারণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে-বিদেশে কিংবদন্তি রাষ্ট্রনায়কের আসনে আসীন। প্রথমত, ১৯৭১ সালে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব আপোষকামী ও ব্যর্থ তখন তাদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার মহান ঘোষণা দিয়ে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটানো।

দ্বিতীয়ত, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সংগঠিত নৃশংস হত্যাকান্ডের পর ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার সংহতির মধ্য দিয়ে দেশের এক চরম সংকটকালে দায়িত্বভার গ্রহণ। এবং সর্বোপরি গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, উৎপাদনমুখী রাজনীতি এবং মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে বিশ্বসভায় নতুন এক বাংলাদেশকে বিনির্মাণ।

কর্মশালায় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার আবদুস সালাম, সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক শামসুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য আবদুল মুকিত, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য আক্তার হোসেন ও কয়েস মিয়া, বিএনপি নেতা নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ, গোলাম রাব্বানি, শহীদুল ইসলাম মামুন, কামাল উদ্দিন, শামসুর রহমান মাহতাব, তাজউদ্দীন, খসরুজ্জামান খসরু, নাসিম আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।#