- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

একাত্তরে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া ব্যক্তি এখন মুক্তিযোদ্ধা !

এইবেলা ডেক্স, কুলাউড়া, ০২ জানুয়ারি :: কুলাউড়া উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের তালিকাভুক্ত হয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন বলে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুয়া তথ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসী মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি গ্রামের মৃত মো. আবদুস ছামাদের ছেলে মো. আবদুর রউফ ১৯৭১ সালে মুক্তযুদ্ধ চলাকালীন কুলাউড়া নবীন চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন। সে সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি ভারতে কোনো ট্রেনিং নিতেও যাননি।

মুক্তিযুদ্ধকালীন এলাকাবাসী তাকে সার্বক্ষণিক এলাকায় দেখেছেন। কিন্তু তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি তালিকাভুক্ত হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ২০০৫ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত গেজেটের ৮৩৯৫নং পৃষ্ঠায় ক্রমিক ১৩২৪ নম্বরে মো. আবদুর রউফের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

অবশ্য গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো অমুক্তিযোদ্ধা যদি তথ্য গোপন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং তা তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন) মো. মুনীর ইকবাল হামিদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ইয়াকুব তাজুল মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবদুর রউফ জানান, আমার নিজের গ্রামও কামারকান্দি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তেন। আরও দুইজন আবদুর রউফ এ গ্রামে আছেন, তারা যুদ্ধের সময় নবম শ্রেণীতে পড়–য়া ছিলেন। তারা কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার সুশীল মালাকার জানান, কারও নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে গেলে তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না। তাছাড়া মো. আবদুর রউফের বিষয়টি তিনি গেজেট দেখে বলতে পারবেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *