- জাতীয়, সিলেট, স্লাইডার

বালাগঞ্জে ইন্সট্রাক্টরের পকেটে শিক্ষকদের টাকা

এইবেলা, বালাগঞ্জ, ২১ জানুয়ারি:: বালাগঞ্জ উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের টাকা চলে গেছে ইন্সট্রাক্টরের পকেটে। শিক্ষকদের অভিযোগ- প্রশিক্ষণের বিভিন্ন খাত থেকে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে এখন তিনি আঙুল ফুঁলে কলাগাছ। জানা যায়, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক চন্দন কুমার বণিক ২০১১ সালে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে। ফলে শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে ক্রমেই বেড়ে চলেছে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড। গত বছরের জুন মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি নামে-বেনামে মনগড়া তালিকা করে একাধিক ব্যাচে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

প্রশিক্ষণ চলাকালীন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের দফতরিদের দিয়ে ‘সাপোর্ট সার্ভিসের আওতায়’ কাজ করিয়ে বিল-ভাউচার তৈরি করে দফতরিদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪শ’ টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনজন দফতরিকে মাত্র ৩ হাজার ৫শ’ টাকা দিয়ে অবশিষ্ট টাকা তিনি নিজেই রেখে দিয়েছেন। সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের হস্তক্ষেপে দফতরিদের পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে সিদ্ধান্ত হলেও দফতরিরা এখনও টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। আদিত্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি অমৃকা বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, আমার কর্মরত বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ চলাকালে ২২ দিন কাজ করিয়ে আমাকে মাত্র ১ হাজার টাকা দিয়েছেন। অথচ আমার ভাতা বাবদ সরকারি বরাদ্দ থেকে চন্দন স্যার ভাউচারের মাধ্যমে দৈনিক ২শ’ টাকা হারে আমার মজুরি উত্তোলন করেছেন। কিন্তু উত্তোলিত বাকি টাকা এখনও পাইনি।

রাধাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি রুবেল আহমদ অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণ ব্যাচ চলাকালীন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে বিভিন্ন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করায় আমাকে ১ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমার স্বাক্ষরে ৮ হাজার ২শ’ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনুরূপভাবে এক মহিলা দফতরিকে দিয়ে গোটা বছরই বিভিন্ন মেয়াদে কাজ করিয়ে তাকে ১ হাজার ৪শ’ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু বিল উত্তোলন করেছেন ৯ হাজার ৩শ’ টাকা। এ ব্যাপারে ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর চন্দন কুমার বণিক যুগান্তরকে বলেন, তাদের টাকা থেকে আরও অনেককেই দিতে হয়। সবার নামে তো আর বিল করা যায় না, তাই দু-একজনের নামে বিল করে টাকা উত্তোলন করতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পিডিইপি-৩ এর আওতায় উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের তত্ত্বাবধানে ১৮৪টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লিডারশিপ, সুস্বাস্থের অধিকারী এবং বিষয়ভিত্তিক বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, প্রাথমিক বিজ্ঞান, শারীরিক শিক্ষা, গণিত, টিচার্স সাপোর্ট নেটওয়ার্ক প্রাক-প্রাথমিক, নিট ব্যাচ সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ৮ম ব্যাচে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণের কাজ শেষ হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি না নিয়ে ইন্সট্রাক্টর নিজেই প্রশিক্ষণার্থীদের নামের তালিকা তৈরি করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করার কথা।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ডেপুটেশনের বিধান থাকলেও ইন্সস্ট্রাক্টর শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি না নিয়েই শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষক হিসেবে যে শিক্ষক থাকবেন ওই স্কুলের কোনো শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করার বিধান না থাকলেও এগুলো মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রাপ্ত টাকা থেকে একটি অংশ কৌশলে হাতিয়ে নেয়া, অনিয়ম করে সরকারি টিএডিএ গ্রহণ, অধিকাংশ সময় ছুটিবিহীন তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষকদের জনপ্রতি ৫শ’ টাকা মূল্যের ব্যাগের স্থলে ২৯০ থেকে ৩৫০ টাকার মূল্যের ব্যাগ, ৫০ টাকার খাতা-কলম ও প্যাডের স্থলে ২০ টাকার উপকরণ এবং ৩০ টাকার নাস্তার স্থলে ১০ টাকার নাস্তা সরবরাহ করে বাকি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলায় কর্মরত প্রধান শিক্ষক লেবু মিয়া, গোবিন্দ চন্দ্র দে, সহকারী শিক্ষক সাধন চন্দ্র ধরসহ কর্মরত একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণ ভাতা হিসেবে ৩ হাজার ৭৮০ টাকার স্থলে ৩ হাজার ৭শ’ টাকাসহ নিম্নমানের উপকরণ প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত সব খাত থেকে ইন্সস্ট্রাক্টর টাকার একটি অংশ কেটে রাখছেন। এ অভিযোগ স্বীকার করে ইন্সট্রাক্টর চন্দন কুমার বনিক বলেন, আমি যা করছি তা এই উপজেলার শিক্ষকদের কল্যাণেই আবার ব্যয় করে যাচ্ছি। ব্যাগ ক্রয় করতে যাতায়াত খরচ রয়েছে, তাই একটু কম দামে ব্যাগ কিনতে হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে মানসম্মত উপকরণও দেয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় উপ-পরিচালক তাহমিনা খাতুন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *