মার্চ ২, ২০১৭
Home » জাতীয় » ওসমানীনগরে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয়!

ওসমানীনগরে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয়!

এইবেলা, ওসমানীনগর, ০২ মার্চ:: আর মাত্র ৫ দিন পর অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মত ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এরই মধ্যে দুই জনের মৃত্যুতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে।

তবে নির্বাচনে ভোটারের আস্থা ফেরাতে ইতিমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় এ নিয়ে দুই জনের মৃত্যুতে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের দেখা দিয়েছে সংশয়।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে গত সোমবার বিকেলে ওসমানীনগর থানা ভবনে নবগঠিত সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইন শৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করে পরবর্তী প্রেসব্রিফিং করেন ।

এসময় তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ করতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। নির্বাচনে কারো কোন ধরণের অন্যায় বরদাস্ত করা হবেনা। নির্বাচন কমিশনার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আইনশৃংখলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি হুমিয়ারি করে এ কথা বলেন।

জানাযায়, আগামী ৬ মার্চ প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওসমানীনগরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে মাদরাসা ছাত্র সাইফুল ইসলাম নিহত হন। পরবর্তীতে সিলেট ওসমানী মেডিকের কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবজি বিক্রেতা সুহেল মিয়া নামের আরো এক জনের মৃত্যু হয়। তবে দুই সন্তানের জনক নিহত সুহেল মিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জগলু চৌধুরীর ঘোড়া প্রতিকের সমর্থক ছিলেন বলে তার পক্ষের লোকজন দাবি করেছেন। ইতিমধ্যে নির্বাচনের আগে দুই ব্যক্তির প্রাণহানীর হওয়ায় আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা সংশয় প্রকাশ করেন।

উপজেলার সাদিপুর ইউনয়নের আছকির মিয়া বলেন, নির্বাচনের আগে দুই ব্যক্তির প্রান হানীন হওয়ায় আমরা সাধারণ মানুষরা আতঙ্কে আছি।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন সুষ্ট ভাবে অনুষ্ঠিত হবে কি না সংশয় প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির দলীয় লাঙ্গল প্রতিকের প্রার্থী শিব্বির আহমদ বলেন, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছে। যারা নির্বাচনকে পুঁজি করে এক এক করে দুটি তাজা রক্ত ঝড়াচ্ছে তাহাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আতাউর রহমান বলেন, নৌকার বিজয় নিশ্চিত দেখে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনকে বানচাল করতে বিভিন্ন ভাবে হাঙ্গেমা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া প্রতিকের আখতারুজ্জামান চৌধুরী জগলু বলেন, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্শ্বান্বিত হয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনা আমার উপর চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যাতে সুষ্টভাবে অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে আমি প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, সৃষ্ট ঘটনায় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না। আসন্ন ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্টিত হবে।