- অর্থ ও বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

শ্রীমঙ্গলে পর্যটক আকর্ষনে দশ লেয়ারের চা তৈরি করছেন রমেশ রাম

তোফায়েল আহমেদ পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল, ০৮ মার্চ :: চায়ের রাজধানী খ্যাত দুটি পাতা একটি কুড়িঁ দেশ মৌলভীবাজার জেলাটি সুনাম ছড়িয়ে আছে সারা দেশ থেকে বিদেশে। দেশের পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজার জেলার চা শহর শ্রীমঙ্গল। বছর জুড়ে শ্রীমঙ্গলে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের পদচারণে মুখিত হয় শ্রীমঙ্গল অঞ্চল।

শ্রীমঙ্গলের পর্যটন এলাকা যেমন দেশি-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ এর চেয়ে এক মাত্র আকর্ষণ শ্রীমঙ্গলের  ১০ লেয়ারের চা। এই বিশ্বখ্যাত ১০ লেয়ারের চায়ে‘র আবিষ্কারক শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া চা বাগানের চা দোকানি রমেশ রাম গৌঢ়। রমেশেরে আবিষ্কারের এই ১০ লেয়ারের চায়ের একটি কাঁচের গ্লাসে এক এক করে ১০ টি স্তর থাকে । ১০ লেয়ারে এই চায়ের স্বাদ একটু অন্য রকম ।

মানুষ যখন কর্মপরিসরে ক্লান্তি বোধ করে তখন শরীরের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রের মত কাজ করে এক কাপ গরম চা। আর সেটা যদি হয় বিশ্বের প্রথম কালার চায়ের আবিস্কারক রমেশ রাম গৌঢ় এর ১০ লেয়ারের রঙ্গিন চা তাহলে তো আর কথাই নেই । তবে রমেশের চা খেতে হলে আপনাকে আসতে হবে দেশের অন্যতম পর্যটন খ্যাত এলাকা  মৌলভীবাজার জেলার চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে।

রমেশ রাম গৌঢ় প্রতিনিয়ত ব্যতিক্রমী কিছু করার ভাবনায় বিভোর ছিলেন বিভিন্ন কালার চায়ের আবিস্কারক রমেশ রাম গৌঢ় । আর তার সাধনা , ভাবনা বিফল হয়নি। আর সেই সাধনার ফলে তৈরী করেন ২০০২ সালের ২ জানুয়ারী প্রথম আবিস্কার করলেন এক পাত্রে দুই কালার চা। দেশি-বিদেশী প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে পর্যটকরা ছুটে আসেন শ্রীমঙ্গলে তার দুই কালার চা এর স্বাদ নিতে। তাতে উৎসাহিত হয়ে রমেশ দুই কালার থেকে আবিস্কার করেন পাঁচ লেয়ার ( কালার) চা  পরবর্তীতে তিনি ৭ টি রং এ ১০টি লেয়ারের চা আবিস্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

পরিবর্তিতে তিনি স্থান পরিবর্তন করে দোকানের নাম দেন  নীলকন্ঠ চা কেবিন।  দিন দিন রমেশের কালার চায়ের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। এখন দেশ বিদেশের পর্যটক ছাড়াও প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের অনেক চা পিপাসুরা রমেশের চা কেবিনে ভীড় জমান প্রতিনিয়ত। তবে সবাই যে রমেশের কালার চায়ের টানে সেখানে যায় শুধু তা নয় রমেশের চায়ের দোকানে ১০ লেয়ার ছাড়াও আরও ৮/১০ রকমের চা পাওয়া যায়।

রমেশের ১০ লেয়ারের চা পান করলে দেখবেন এক এক লেয়ারে এক এক রকম স্বাদ আর তখন আপনার মনে হবে ১০০ টাকা দিয়ে আপনার এককাপ চা খাওয়া সার্থক হয়েছে।

রমেশের এই কৃতিত্ব ছড়িয়ে পরেছে দেশে বিদেশে। আর দেশের সাপ্তাহিক ও দৈনিক থেকে শুরু করে প্রকাশিত হয়েছে বিশ্ব বিখ্যাত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়।

রমেশ সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি বলেন ,আমার আবিষ্কারের চায়ের প্রথম সফলতা দুই কালারের চা, আস্তে আস্তে আমি আবিষ্কার করি ৫,৭, এবং সর্বশেষ ১০ কালারের চা । রমেশ জানায় তার এই চায়ের কোন ক্ষকিকারক কোন মেডিসিন বা ক্যামিক্যাল নাই , আমার এই আবিষ্কাকৃত চা গবেষণা করেছে বাংলাদেশ চা গবেষণার কেন্দ্র ।

এর আগে৭ লেয়ারের চায়ের স্বাদ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা ,বিচার বিভাগের জর্জ, সচিব,ডিসি, এডিসি , বিজিবি মেজর কর্ণেল, র‌্যাব কমিশনার, পুলিশ প্রধান , সেনাবাহিনীর মেজর কর্ণেল, নাট্য অভিনেতা, চলচিত্র অভিনেতারা এই চায়ের স্বাদ নিতে এসেছেন শ্রীমঙ্গলে ।

বর্তমানে রমেশের দুটি চায়ের কেবিন রয়েছে ১ টি শ্রীমঙ্গল বিজিবি ক্যাম্পে, আরেকটি শ্রীমঙ্গল শহর থেতে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে কাটাবটের তল নাম স্থানে নীলকন্ঠ চা কেবিন ।

শ্রীমঙ্গল বিজিবি ক্যাম্পে রমেশের চায়ের কেবিন দেখে মনে হবে কোন ছবি‘র গ্যালারী তার এই গ্যালারীতে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশ সহ বিদেশী বিভিন্ন অনেক মন্ত্রীরা, গুণীজনের চায়ের চুমকের ছবি দিয়ে সাজিয়ে রেখেন। রমেশের কালার চায়ের আবিষ্কারের জন্য তার কাছে এসেছে বিদেশী অনেক বড় বড় ফাইভ ষ্টার হোটেলে চাকরীর সুযোগ এসেছে অনেক লোভনী প্রস্তাব পেয়েছেন কিন্ত তিনি সাড়া দেননি। এমনকি দেশের বাহিরে যাবার সুযোগ এসেছে , তিনি জানান আমি দেশে থেকে আমার দেশের মানুষের আনন্দ দিতে পেরে আমি আনন্দিত ।

শ্রীমঙ্গলের বেড়াতে আসা পর্যটকদের এক বিশেষ আকর্ষন বর্তমানে ১০ কালার চা। রমেশের চায়ের কারণে শ্রীমঙ্গল ছুটির দিনে পর্যটকদের মুখরিত হয়ে চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল অঞ্চল।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *