- অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

রাজনগরে ট্রান্সফরমার পাহারায় মানুষের নির্ঘূম রাত

এইবেলা ডেক্স, কুলাউড়া, ২১ মার্চ ::  এক হাতে লাঠি অপর হাতে টর্চ লাইট। বৈদ্যুত্বিক খুঁটির নিচে রয়েছেন দাঁড়িয়ে। লোকজনের হাটাচলা বা গাড়ির কোন শব্দ পেলেই হুইসেল দেন। এভাবেই মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় চলছে ট্রান্সফরমার পাহারা। উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের চলছে ট্রান্সফরমার পাহারা। এদিকে সোমবার গভীর রাতে উপজেলার গড়গাঁও গ্রামের ময়না মিয়ার রাইস মিলের দুটি ট্রান্সফরমার চুরি করেছে দূর্বৃত্তরা।

জানা যায়, গত কয়েক মাসে রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫টিরও বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। কয়েকটি ট্রান্সফরমার একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি ট্রান্সফরমার চুরি হলে প্রথমবার অর্ধ মূল্য দিয়ে কিনে নিতে হয়। পরবর্তীতে পুরো মূল্য জামা দেয়া হলেই কেবল ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করা হয়।

পল্লীবিদ্যুতের এ নিয়মের কারনে একাধিকবার চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ নিজেরা ক্রয় করেই লাগিয়েছেন। বারবার ট্রান্সফরমার চুরি হওয়াতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে গত ২৬ জানুয়ারি উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের দক্ষিন মহলাল এলাকার একটি ৫ কেভি ট্রান্সফরমার তৃতীয় বারের মতো চুরি হয়। এর আগে দুই বার চুরি হলে প্রথমবার অর্ধমূল্য দিয়ে ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু পরেরবার থেকে নিজেদেরই ক্রয় করতে হচ্ছে। গত ২৬ জানুয়ারি চুরি যাওয়ার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৪২ হাজার টাকা দিয়ে ট্রান্সফরমারটি লাগিয়েছেন।

এছাড়াও ট্রান্সফরমারটি দ্বিতীয়বার চুরির পরে ট্রান্সফরমারটির নিরাপত্তার জন্য মৌলভী আজিজুর রহমানের বাড়ির সামনে ও বৈঞ্চিত ঠাকুরের থলির পাশের খুঁটিতে নিয়ে আসা হয়। লোহার চেইন দিয়ে তালাও লাগিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। রাতের আধারে ফের ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়। এতে ওই এলাকার মানুষ বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হন। সম্প্রতি নিরাপত্তার প্রয়োজনে ট্রান্সফরমারটি ওই স্থান থেকে অন্য খুঁটিতে সরিয়ে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

টেংরা ইউনিয়নের দত্তগ্রাম ও টেংরায় চলছে রাত জেগে পাহারা। টেংরা গ্রামের ১৫ কেভি ট্রান্সফরমারের আওতাধীন এলাকার লোকজন রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। এটি ২য় বার চুরি যাওয়ায় পুরো মূল্য দিয়েই কিনতে হয়েছে। ওই এলাকার লোকজন ট্রান্সফরমারটি অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার জন্য আবেদন করলেও পল্লীবিদ্যুত কর্তৃপক্ষ ওই স্থান পরিদর্শন করে ৬২ হাজার টাকা ব্যয় হবে বলে চিঠি দিয়েছে। এতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

ওই এলাকার মিটু দাস বলেন, ট্রান্সফরমারটি আমরা পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছি। নিরাপত্তার জন্য এটি জনসমাগম এলাকায় সরিয়ে নেয়ার জন্য আবেদন করার পরও পল্লীবিদ্যুতের লোকজন টাকা চাইছে। এ ট্রান্সফরমার ব্যবহারকারীদের সবাই দরিদ্র। তাদের পক্ষে ৬২ হাজার টাকা দিয়ে স্থানান্তর সম্ভব নয়।

রাজনগর পল্লীবিদ্যুতের জুনিয়ন ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম জানান, আমরাতো চোর ধরতে পারি না। চুরি হলে থানায় লিখিত দেয়া হয়। এর বাইরে আমরা ট্রান্সফরমার পাহারা দেয়ার জন্য স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করি। চোর ধরার দায়িত্ব পুলিশের।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *