মার্চ ২২, ২০১৭
Home » জাতীয় » জুড়ীতে উন্নয়ন কর্মসূচির ৪০ লাখ টাকার কাজে সমঝোতা করার অভিযোগ

জুড়ীতে উন্নয়ন কর্মসূচির ৪০ লাখ টাকার কাজে সমঝোতা করার অভিযোগ

এইবেলা, জুড়ী, ২২ মার্চ ::  মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১০টি প্রকল্পের ৪০ লাখ টাকার কাজে সমঝোতা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা পরিষদ মোট বরাদ্দের ১৫ শতাংশ কেটে নিয়ে ১০ ঠিকাদারকে ওই কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র এবং চার-পাঁচজন ঠিকাদার জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপির আওতায় উপজেলার ১০টি প্রকল্পে ৪০ লাখ ১৫ হাজার ৩২০ টাকা বরাদ্দ হয়। ৮ মার্চ এসব প্রকল্পের দরপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ছিল। দরপত্রে সমঝোতার লক্ষ্যে ৬ মার্চ বিকেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়।

বৈঠকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গুলশান আরা চৌধুরীসহ ১০-১৫ জন ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপজেলা পরিষদের প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যালয়ের ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় বাবদ মোট বরাদ্দের ১৫ শতাংশ (প্রায় ৬ লাখ টাকা) কেটে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া ১০ জন ঠিকাদারকে ১০টি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে চারটি করে দরপত্র জমা পড়ে। উপজেলা পরিষদের তালিকাভুক্ত ৪২ জন ঠিকাদার রয়েছেন। বৈঠকে কাজ পাওয়া ঠিকাদারেরা তাঁদের প্রকল্প থেকে বাদ পড়া ৩২ জন ঠিকাদারকে ১০ হাজার টাকা করে (মোট ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা) দেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাঁচজন ঠিকাদার সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের কাজে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর সই লাগে। তাই তাঁদের খুশি রাখতে কিছু টাকা রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গুলশান আরা চৌধুরী দাবি করেন, প্রকল্পের ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যালয়ের ব্যয় ও যুবলীগের এক নেতার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য ১০টি প্রকল্প থেকে কিছু টাকা কেটে রাখা হয়। আর ঠিকাদারেরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মতিন দরপত্রে সমঝোতার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান বলেন, দরপত্রে সমঝোতা ও প্রকল্পের টাকা কেটে রাখার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।#