- অর্থ ও বাণিজ্য, জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্থানীয়, স্লাইডার

কুলাউড়ায় বয়স বাড়িয়ে বয়স্কভাতা দেয়ার অভিযোগ

এইবেলা ডেক্স, কুলাউড়া, ২৭ মার্চ ::  মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ৭ নং কুলাউড়া সদর ইউনিয়নে ৪ থেকে ২৬ বছর পর্যন্ত বয়স বাড়িয়ে ৩১ জন ব্যক্তিকে বয়স্কভাতা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (একাংশের) সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের (২০১৬) ২ জুন সদর ইউপির তৎকালীণ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ২০১৬-’১৭ অর্থবছরে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্দ্বী ভাতা প্রদানের ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে একটি তালিকা পাঠান। সেই তালিকা অনযায়ী, ওই বছরের জুলাই মাস থেকে সদর ইউনিয়নের ৪৯ জন লোক প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে বয়স্কভাতা পাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ভাতা পাওয়ার জন্য পুরুষদের বয়স ৬৫ ও মহিলাদের বয়স ৬২ হতে হবে।

লুৎফুর রহমানের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান ভুঁয়া জন্মসনদের মাধ্যমে পছন্দের লোকদের বয়স্কভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন বলে এলাকায় প্রশ্ন উঠে। এর পর ইউপি চেয়ারম্যানের পাঠানো তালিকা ও ভোটার তালিকা সংগ্রহ করে ৩১ জন ভাতাভোগীর বয়সে গরমিল ধরা পড়ে। তাঁদের কারও ভাতা পাওয়ার এখনো বয়স হয়নি। ভোটার তালিকার চেয়ে তাঁদের বয়স চার থেকে ২৬ বছর বেশি।

অভিযোগকারী লুৎফুর রহমান চৌধূরী বলেন, গত বছরের (২০১৬) ২৩ এপ্রিল সদর ইউপির নির্বাচন হয়। নির্বাচনে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের স্ত্রী নারগিস আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুর রহমান নারগিসের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন।

লুৎফুর অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে বুবলির (নারগিস আক্তারের ডাকনাম) পক্ষে যাঁরা কাজ করেছিলেন শাহজাহান সাহেব পুরস্কার হিসেবে তাঁদের ভূঁয়া জন্মসনদ প্রদান করে বয়স্কভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

তবে মোহাম্মদ শাহজাহান তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকায় ৩১ জন ভাতাভোগীর বয়সের তথ্য ভুল। জন্মসনদের তথ্য সঠিক। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউপি নির্বাচনে হেরে লুৎফুর তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে বিভিন্ন অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান নারগিস আক্তার বলেন, তাঁর দায়িত্ব গ্রহনের আগে ভাতাভোগী নির্বাচন ও তাঁদের তালিকা তৈরি করে সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। তাই, এর বেশি এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

ভাতাভোগী মফিজ আলী, ইয়াজুল হোসেন, খেজুর মিয়া ও আবদুল কাদির দাবি করেন, ভোটার তালিকা করার সময় তাঁরা বাড়িতে ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ফরমে বয়স কমিয়ে দেন। পরে ভাতা পেতে তাঁরা ইউপি কার্যালয় থেকে বয়স বাড়িয়ে জন্মসনদ নেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মু. তানভীর হাসানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুয়েব হোসেন চৌধুরী ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াছমিন। কমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমান পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান বলেন, তদন্তকাজ চলছে। খুব তাড়াতাড়ি এ ব্যাপারে তাঁরা ইউএনও’র কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *