মার্চ ২৮, ২০১৭
Home » অর্থ ও বাণিজ্য » শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের দুঃখ কথা

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের দুঃখ কথা

তোফায়েল আহমেদ পাপ্পু, শ্রীমঙ্গল, ২৮ মার্চ ::  চায়ের জন্য বিখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা। দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে এই অঞ্চলে। শ্রীমঙ্গল চায়ের রাজধানী বলে পরিচিত। শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিকরা প্রতিদিন সকালে চা-পাতা ভাজা, দুপুরে শুকনা রুটি খেয়ে টানা আট ঘণ্টার পরিশ্রম শেষে ২৩ কেজি চা-পাতা সংগ্রহের পরেও মজুরি হিসেবে পাচ্ছেন মাত্র ৮৫ টাকা। দিনের পর দিন এভাবে তারা জীবন কাটাচ্ছেন। ফলে পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও অপুষ্টিতে ভুগছেন। আর তাদের সন্তানরা ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না। সোমবার (২৭ মার্চ) শ্রীমঙ্গলের চা বাগান ঘুরে চা শ্রমিকদের কাছ থেকে জানা যায় তাদের যত দুঃখ কথা।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ স¤পাদক রাম ভজন বলেন, চা শ্রমিকদের বেতন কাঠামো অত্যন্ত অমানবিক। এই বেতন দিয়ে তারা ধুঁকছে কিন্তু একে বেঁচে থাকা বলে না। তবে আমরা এ নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষিতে যাচ্ছি। শিগগিরই সর্বনি¤œ চারজন সদস্যের একটি পরিবারের জীবনের ব্যয়ভারের কথা চিন্তা করে ২৩০ টাকা মজুরি ধরে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানাতে যাচ্ছি।

জানা যায়, গান্ধিছড়া গ্রামে মোট ৩৭৪ জন শ্রমিক আছেন। আট বাই আটের একটি  ঘরে দুটি করে রুম। এর এক কোনে রান্নাঘর। এর মধ্যেই গাদাগাদি করে থাকছেন সাত-আট সদস্যের এক-একটি পরিবার। এই শ্রমিকরা জানান, দিন শেষে একজন চা শ্রমিক ৮৫ টাকার মধ্যে ৩৫ টাকা দিয়ে দুই কেজি চাল, ১০ টাকা দিয়ে ১০০ গ্রাম মসুর ডাল, ১০ টাকার হলুদ-মরিচ ক্রয় করেন। বাকি ৩০ টাকা তেল, নুন বা অন্য কিছুতে খরচ হয়। তারা দুই সপ্তাহে একবার বাজারের সবচেয়ে কম দামি সিলভারকার্প মাছ কিনে খাওয়ার সুযোগ পান। মাসে একবার বাসায় মেহমান আসলে চা শ্রমিকরা তাদের ঘরের মোরগ-মুরগি খাওয়ান। কিন্তু এটিও তাদের জন্য বিলাসিতা।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চা বাগানে তারা সকাল আটটা থেকে শুরু করে বিকাল চারটা পর্যন্ত টানা কাজ করেন। আর আট ঘণ্টা কাজ করার পর প্রতিদিন একজন শ্রমিককে ২৩ কেজি চা-পাতা সংগ্রহ করতে হয়। এর পরেই তাকে ৮৫ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২৩ কেজির ওপর প্রতি কেজি বাড়তি চা পাতার জন্য একজন শ্রমিক সাড়ে তিন টাকা করে পান।

আর যদি পাতা ২০ কেজির কম হয় তাহলে আশি টাকার কম করে মজুরি দেওয়া হয়। আবার কিছু বাগানে দিনে ২৩ কেজি করে চা-পাতা সংগ্রহের কথা থাকলেও শ্রমিকদের দিয়ে ২৪ কেজি করে পাতা সংগ্রহের বিনিময়ে মজুরি দেওয়া হচ্ছে।#