এপ্রিল ৫, ২০১৭
Home » জাতীয় » কুলাউড়ায় অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো ধান তলিয়ে গেছে : এবার তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট

কুলাউড়ায় অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো ধান তলিয়ে গেছে : এবার তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তাঘাট

আজিজুল ইসলাম, ০৫ এপ্রিল ::  হাকালুকি হাওরের ধলিয়া বিলে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন কৃষক মুছা মিয়া (৫৫)। জানালেন এবার আর কাচি নিয়ে ধান কাটতে বোরো ক্ষেতে নামতে হবে না। একটি ধান গাছের পাতাও রাখেনি অকাল বন্যায়। নিজের বছরের খাবারের পর অতিরিক্ত ২০-৩০ মন ধান তিনি বিক্রি করেন। অথচ এবার ধান বিক্রি তো দুরের কথা, সারা বছর কিভাবে স্ত্রী সন্তানের মুখে দুমুটো ভাত তুলে দিবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা।

একই অবস্থা কুষক আব্দুল হাসিম, আব্দুল মন্নান, আব্দুল মালিক, মদন নাথের। সবার একটাই কথা, গত বছর বৈশাখ মাসে বন্যা হয়েছিলো। এবার চৈত্র মাসের মাঝামঝি থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে অকাল বন্যায় তলিয়ে গেলো সারা বছরের একমাত্র ক্ষেত বোরো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতি বর্ষনে মৌলভীবাজারের হাকালুকি, কাউয়াদীঘি, হাইলহাওরসহ জেলার নিম্নাঞ্চলের ১৪ হাজার ৮৬২ হেক্টর বোরো ফসল পানির নীচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এ পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। এ বছর জেলায় বোরো ফসল আবাদ হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬২ হেক্টর। জানা গেছে, সাধারণত এ মৌসুমে ১০-১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

হাকালুকি হাওর তীরের জয়চন্ডী, ভুকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের মানুষ জানান, চৈত্র মাসে এমন অকাল বন্যা কোনদিন দেখেন নি তারা। যদি পাহাড়ী ঠলে বোরো ধান তলিয়ে গেলেও কোন কথা ছিলো না। এখন বন্যা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে রাস্তা ঘাট। পানিবন্দি হয়ে পড়ছে মানুষ।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, এই অঞ্চলের মানুষ একমাত্র বোরো ক্ষেতের উপর নির্ভরশীল। একমুঠো ধান তুলতে পারেনি কোন কৃষক। ফলে এবার হাকালুকি হাওর তীরের মানুষের মাঝে তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে।

এদিকে বৃষ্টিপাত না থামার কারণে হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত। সবুজ ধানের মাঠ এখন থৈ থৈ করছে পানিতে। কুলাউড়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত মনু নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মনু নদীর ৩৯টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার ০৫ এপ্রিল দিনভর বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিলো। বৃষ্টিপাত না থামলে যেকোন মুহুর্তে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন সৃষ্টি হতে পারে। ফলে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছেন মনু তীরের মানুষ।

এদিকে বুধবার ০৫ এপ্রিল কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাবিব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নেহার বেগম ও মাওলানা কাজী ফজলুল হক শাহেদ হাকালুকি হাওর তীরের ভুকশিমইল ইউনিয়নে তলিয়ে যাওয়া বোরো ধান এবং অকাল বন্যার চিত্র পরিদর্শণে যান। এসময় ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির উপস্থিত ছিলেন।

এব্যপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মো. গোলাম রাবিব জানান, আমরা সরেজমিন ভুকশিমইল ইউনিয়ন এলাকা পরিদর্শণ করলাম। এলাকার সার্বিক চিত্র খুবই ভয়াবহ। ধানতো নাই, ঘুনিঝওে মানুষেল বাড়িঘর, স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। এখন আবার বন্যায়ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষি এবং পিআইও অফিস মিলিয়ে কুলাউড়া উপজেলায় অকাল বন্যা ও ঘুর্নিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি দ্রুত নিরূপনের কাজ চলছে। চুড়ান্ত হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠিয়ে দেয়া হবে।#