জুন ১, ২০১৭
Home » জাতীয় » পাঁচ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজার

পাঁচ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজার

এইবেলা, মৌলভীবাজার. ০১ জুন  :: বৃহস্পতিবার ০১ জুন ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজার পৌর এলাকার প্রায় অর্ধেক অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে। শহরের সহস্রাধিক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় পানি জমেছে কোমর অবধি। সকালে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামী লোকজন মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ে।

ভোর ৪টার দিকে শুরু হয় টানা বর্ষণ। এই বর্ষণ সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে। মুষলধারার এ বৃষ্টির কারণে শহরের সার্কিট হাউস এলাকা, টিবি হাসপাতাল রোড, আরামবাগ, কলিমাবাদ, পূর্ব গীর্জাপাড়া, ধরকাপন, পশ্চিমবাজার এলাকা, শান্তিবাগ, গোবিন্দশ্রী, সৈয়ারপুর, দর্জিরমহল, বেজবাড়ীসহ পৌর এলাকার প্রায় অর্ধেক এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। যেসব বাসাবাড়িতে হাঁটু অবধি বা তারও বেশি পানি উঠেছে, সেসব বাসাবাড়ির কেউ কেউ খাট পালঙ্কের উপর ফ্রিজসহ মূল্যবান আসবাসপত্র তুলে রাখে। রমজান মাস হওয়ায় অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। জেগে দেখেন ঘরের ভেতর পানি।

কুলাউড়া স্টেশন রোড থেকে তোলা ছবি

কুলাউড়া স্টেশন রোড থেকে তোলা ছবি

সার্কিট হাউস এলাকার রোজিনা বেগম বলেন, ‘প্রতিবছরই এক থেকে দুইবার এই দুর্ভোগে পড়তে হয়। নিজেদের কষ্টতো আছেই। ড্রেনের নোংরা পানির কারণে বাচ্চারা বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। ‘

টিবি হাসপাতাল রোডে নারী-পুরুষদের নানা প্রয়োজনে কোমর পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যাতাযাত করতে হয়েছে। পূর্ব গীর্জাপাড়ার বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। সার্কিট হাউস এলাকায় বসবাসরত সাংবাদিক ফেরদৌস আহমদের দুইতলা বাসার নিচতলায় প্রায় চার ফুট পানিতে ডুবেছে। তিনি জানান, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সব নাগরিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে না নামলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না।  তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌর কৃর্তপক্ষের সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বললে তারা নানা প্রকল্পের নাম শোনান। বাস্তবে কোনো কাজ হয় না। হয় টাকার ভাগবাটোরা। শহরের পূর্ব গীর্জাপাড়ার অবস্থাতো খুবই নাজুক। প্রতিবছরই এ পাড়ার লোকজনকে আগাম সতর্ক থাকতে হয় নিজ উদ্যোগে। এবারও ঘরবাড়িতে হাঁটু সমান পানে হয়েছে। ‘

শহরের ধরকাপন ও গোবিন্দশ্রী এলাকার হাছান আহমদ রাজা বলেন, ‘বছরের এ সময়টাতে আমরা প্রায় আটক হয়ে পড়ি পানির কারণে। এ এলাকাগুলো থেকে পানি বের হওয়ার জন্য সহায়ক ড্রেন নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি। এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই। ‘ জলাবদ্ধতা বিষয়ে পৌর নাগরিক শুধাংশ মেখর হালদার বলেন, ‘শহরবাসী এমন অবস্থা দেখতে চায় না। পৌর কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে পৌরবাসীকে স্বাচ্ছন্দে থাকার পরিবেশ সৃষ্টি করবে- এমনটাই আশা করেন পৌরবাসী। ‘

মৌলভীবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হোসাইন খান বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। শহরের সবগুলো ড্রেন ভরে গেছে। পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম কোদালীছড়া দিয়ে পানি দ্রুত নামতে না পারায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ‘

পৌর মেয়র মো, ফজলুর রহমান বলেন, ‘শহরের সব ড্রেনই পরিষ্কার রয়েছে। কোদালীছড়াও খনন করা হয়েছে। কিন্তু কোদালীছড়ার ভাটিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর অপরিকল্পিতভাবে দুটি স্লুইস গেইট নির্মাণ করায় পানি দ্রুত হাইল হাওরে নেমে যেতে না পারায় মৌলভীবাজার শহরে বার বার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। স্লুইস গেইট অপসারণের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। ‘ শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।#