- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয়, স্লাইডার

বড়লেখায় ৪৮ প্রাইমারী স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই জানেন না শিক্ষা অফিসার !

আব্দুর রব, ০১ জুন  ::: মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ৪৮টি প্রাইমারী স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে নেই প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্তে ভারাক্রান্ত এসব স্কুলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে নানা কোন্দল, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ। এর যাতাকলে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে লেখাপড়ার মান। তবে উপজেলার কয়টি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে এ তথ্যটিই জানেন না শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দিন !

জানা গেছে, উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা এলাকায় ৫৩ টি সদ্য জাতীয়করণসহ মোট ১৪৯টি প্রাইমারী স্কুল রয়েছে। অবসরগ্রহণ ও বদলি জনিত কারণে এরমধ্যে ৪৮টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে একাধিক শূন্যপদ থাকা স্বত্ত্বেও বিধিবর্হিভুতভাবে শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে অনেক প্রধান শিক্ষক পছন্দের এলাকায় বদলি হয়েছেন। বাকী শিক্ষকদের সিনিয়র একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় বছরের পর বছর এসব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়েই চলছে অর্ধশত প্রাইমারী স্কুল। দাপ্তরিক কাজকর্মের পাশাপাশি পাঠদান করতে গিয়ে এসব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের হিমসিমও খেতে হচ্ছে। এছাড়া দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকদের মধ্যে নানা কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক অযোগ্য ও প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন প্রাইমারী স্কুল ঘুরে জানা গেছে, ২ ও ৩ শিক্ষকের স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত করায় অনেক ক্লাসের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাছাড়া মাতৃত্বজনিত ছুটি ও ট্রেণিং সংক্রান্ত ডেপুটেশন দেয়ায় অনেক বিদ্যালয়েই বছরের বেশিরভাগ সময় শিক্ষক শূন্য থাকে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন এমন কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সকল দাপ্তরিক কাজকর্ম করতে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। শিক্ষকরাও মারাত্মক ভোগান্তি পোহান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন জানান, বড়লেখায় কয়টি প্রাইমারী স্কুল ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে তা তিনি জানেন না। তিনি নতুন এসেছেন, খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল আলিম জানান, সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলে স্বাভাবিকভাবেই স্কুলের শ্রেণী কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে। প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পুরণের জন্য পদোন্নতিযোগ্য সহকারী শিক্ষকদের একটি তালিকা তৈরী করে অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছেন।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *