- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয়, স্লাইডার

বাইসাইকেল চড়ে স্কুলে যাবে কমলগঞ্জে মহাখুশীতে ৮০ জন শিক্ষার্থী

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, কমলগঞ্জ. ১৩ জুন :: মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের ধলই চা বাগানের চা শ্রমিক সন্তান ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুবর্ণা বাউরীা। গত রোববার দাঁড়িয়ে আছে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিন্হা স্কুল এন্ড কলেজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। চোখে মুখে আত্মবিশ্বাসের চাপ। তার সঙ্গে আরও ৭৯ জন ছাত্রীর মুখেও নতুন আলোর সন্ধান, এগিয়ে যাওয়ার পণ। এগিয়ে যাওয়ার পথে তাদের সঙ্গী এবার বাইসাইকেল। উৎসবের রেশে রোববার (১১ জুন) বিকেলে তারা কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে বুঝে পেয়েছেন স্কুলে যাবার নতুন বাহন। নারীর ক্ষমতায়নে উপজেলা পর্যায়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ প্রকল্পের আওতায় কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হকের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুরবর্তী গ্রামের ৮০ জন ছাত্রীর হাতে এ বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি সাইকেলে রয়েছে আলাদা আলাদা পরিচিতি নম্বর। এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮০ জন ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানস্থলে কথা হয় ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী মণি ছত্রীর সাথে। উচ্ছ্বসিত মণি বলে ‘সাইকেল পেয়ে খুব ভাল লাগছে। এতদিন ৫/৬ কিলোমিটার দুর হাজারীবাগ চা বাগান থেকে পায়ে হেটে স্কুলে আসতাম। আদমপুর তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী প্রান্তি চাষা। বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাসের সাথে নতুন সাইকেলটি সহপাঠীদের নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল সে। প্রান্তি কামারছড়া চা বাগান থেকে প্রতিদিনি পায়ে হেটে স্কুলে আসত। সে জানায়, প্রতিদিন গাড়ি ভাড়া দিতে হয় অনেক টাকা। সাইকেল পাওয়ায় স্কুলে যাতায়াতে সুবিধা হবে। নিয়মিত এখন স্কুলে যেতে পারব।’

অনুষ্ঠানে আসা ২নং পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তওফিক আহমদ বাবু বলেন, এটা নারীর ক্ষমতায়নে অনেক এগিয়ে যাবে। এছাড়া এদের দেখা দেখি সক্ষম অভিভাকদের কাছ থেকে সাইকেল পেয়ে অন্যরাও এ অভিযাত্রায় অংশীদার হবে বলে আমি মনে করছি।’

আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে ছাাত্রীদের ঝড়ে পড়া রোধ কল্পে নিয়মিত বিদ্যালয়গামী করতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৮০ চন দরিদ্র ছাত্রীর মাঝে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের এডিবির তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সাইকেল বিতরণ করা হয়। জেলার সাতটি উপজেলার মাঝে কমলগঞ্জ উপজেলাকে শিক্ষায় এগিয়ে নিতে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন পরিকল্পনা মাফিক শিক্ষায় মনিটরিং শুরু করে। কমলগঞ্জ উপজেলার ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ৮ম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মুঠোফোন নম্বরসহ তালিকা সংগ্রহ করে এবং দেড় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের  মুঠোফোনের নম্বরসহ নামরে তালিকা সংগ্রহ করে উপজেলা প্রশাসন থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়া বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তারা এসব তদারকি করেন।

বিদ্যালয়গুলোতে লেখা পড়ান মান উন্নয়নে ইতিমধ্যেই বিষয় ভিত্তিক ইংরেজী ও গণিত বিষয়ে উপজেলার ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের অংশ গ্রহনে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচীর সহযোগিতায় ৫দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর পর ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের একদিনব্যাপী পাবলিক স্পিকিং-এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

গত রোববার (১১ জুন) কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নে বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা স্কুল এন্ড কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ৮০ জন ছাত্রীর হাতে বাই সাইকেল তুলে দেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ভারতীয় হাইকমিশনার শ্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এড. মিছবাহ উদ্দীন সিরাজ, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ.কে.এম.গোলাম কিবরিয়া তাপাদার, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহজালাল, কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার লিলি, ভাইস চেয়ারম্যান মো. সিদ্দেক আলী, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সরকারী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক আরো বলেন, তিনি এক বছর আগে কমলগঞ্জে যোগদান করে জানতে পেরেছিলেন, জেলার সাত উপজেলার মাঝে শিক্ষায় কমলগঞ্জ ৭ম। তখন থেকে তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ভাইস চেয়ারম্যানদের সহযোগিতা নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে দফায় দফায় সভা করে শিক্ষা উন্নয়নে প্ররিকল্পনা গ্রহন করেন। তারই অংশ শিক্ষা মনিটরিং, শিক্ষকদের প্রশক্ষিণ, বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা ও ঝরে পড়া রোধে প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র ছাত্রীদের বাই সাইকেল সুবিধা প্রধান। এতে ব্যাপক সাড়া ও সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছেন বলে গত এক বছরে এর ভাল সফলতাও এসছে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *