- জাতীয়, ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

আতঙ্কে মনু নদীর ৫টি ভাঙন এলাকার মানুষ

এইবেলা, সেলিম আহমেদ, ১৪ জুন:: মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে সৃষ্ট ভাঙনের মুখে সর্বস্বহারা প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নেয়া ৩৫টি পরিবারসহ কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলা অংশে ৫টি ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ আকাশের ঈষাণ কোনে কালো মেঘ জমাট বাঁধতে দেখলে আৎকে উঠে। এই বুঝি শুরু হবে ভারি বর্ষণ। আবার ভাঙন দিয়ে বেরুবে পানি। আর তাতে নতুন করে শুরু দুর্ভোগের।

কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের  প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রিত আসুক মিয়া, উস্তার মিয়া, শাহাব উদ্দিন, আনাছ মিয়া, খালিক মিয়া, মনির মিয়া, তকলিফ মিয়া, মজিদ মিয়া, ফরিদ মিয়া, ইউছুফ মিয়া, আখলাছ মিয়া, ইব্রাহিম আলী, আইয়ুব আলী, উছমান মিয়া, কুদ্দুছ মিয়া জানান, এখন সামান্য ভারী বৃষ্টিপাত হলে ভাঙন এলাকা দিয়ে পানি বের হতে শুরু হবে। আর তাতে তাদের বাড়ি ফেরা দেরি হবে। কেননা ঘরবাড়ি মেরামত কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। পানির স্রোতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কারণে তারা প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। কতদিন এই প্রতিরক্ষা বাঁধে থাকতে হবে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই।

12

শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রিত মুসলিম মিয়া, তসলিম আলী, তাজুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিপাত হলেই ফের ভাঙন দিয়ে পানি বের হবে। ফলে বানভাসি এসব মানুষ আগে ভাঙন মেরামত করার দাবি মানুষের।

এই আতঙ্ক শুধু বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষেরই নয়। মুনু নদীর কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের মিয়ারপাড়া ও শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এবং রাজনগর উপজেলায় রাজনগর উপজেলা অংশে কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর ও টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মধ্যে। নিশ্চিন্তপুর  গ্রামের আব্দুল লতিফ, আব্দুল হান্নান, লেদু মিয়া, এলাইচ, রবিউল হাসান ছায়েদ,লয়লু, মিজানুর রহমান ও আবুল কালাম জানান, দ্রুত ভাঙন এলাকা মেরামত করা না হলে মানুষ দফায় দফায় ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ভারী বৃষ্টিপাত হলেই ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করবে। কেননা ভাঙন এলাকা এতটাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে যে, নদীর নিচের স্তরের সাথে মিশে গেছে।

কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জুনাব আলী ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালিক জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার ও মঙ্গলবার যে বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে মানুষের মাঝে একটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাঁধ সৃষ্ট ভাঙন মেরামত করার আগ পর্যন্ত আতঙ্কিত হওয়াটা ম্বাভাবিক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ বিজয় চক্রবর্তীর মুঠোফোনে জানান, জরুরী ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে এবং নদীতে পানি বাড়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ৫টি ভাঙন এলাকায় আশা করি আবার দ্রুত মেরামত কাজ শুরু হবে।#

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *