জুলাই ১, ২০১৭
Home » জাতীয় » রাজনগরে ৪ ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি মানুষ

রাজনগরে ৪ ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি মানুষ

এইবেলা, রাজনগর. ০১ জুলাই ::

মৌলভীবাজারের রাজনগরে কুশিয়ারা নদী ও কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চার ইউনিয়নের ৪০ টিরও বেশি গ্রামের ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছেন। পানি উঠে যাওয়ার কারণে কার্যত বন্ধ রয়েছে ৮ টিরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কামালপুর ও বকসিপুর প্রাতমিক বিদ্যালয়ে ৩০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়াও বাস যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে মৌলভীবাজার-রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কে। অতিরিক্ত পানির কারণে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানি বন্ধি মানুষজন।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে রাজনগর উপজেলার কুশিয়ারা নদী ও কাউয়াদীঘি হাওরে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কুশিয়ারা নদীর ও কাউয়াদীঘি হাওর তীরের ফতেহপুর, উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ৪০টিরও বেশি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। হাওর তীরের গ্রামগুলোর মানুষ একেবারেই যোগাযোগ বিচ্হিন্ন হয়ে পড়েছেন। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এসব গ্রামের কৃষকেরা। দেখা দিয়েছে গো খাদ্য সংকট।

এছাড়াও হাওরের পানিতে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজার-রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের বেশ কিছু এলাকা। এতে ফতেহপুর ইউনিয়ন ও বালাগঞ্জ এলাকার সঙ্গে বাস যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ঝুকি নিয়ে ছোট ছোট যানে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। খোজ নিয়ে জানা গেছে, কুশিয়ারা নদী ও কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বৃদ্ধির কারণে ফতেহপুর, উত্তরভাগ, মুন্সিবাজার ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কাশিমপুর, শাহপুর, আব্দুল্লাহপুর, জাহিদপুর, শাহপুর, বেড়কুড়ি, হামিদপুর, বিলবাড়ি, শাহবাজপুর, মুনিয়ারপাড়, বেতাহুঞ্জা, গোবিন্দপুর, ফতেহপুর, বাঘমারা, বাঘেরবাড়ি, কামালপুর, মেদিনিমহল, সুনাটিকি, মিয়ারকন্দি, আমীরপুর, ধুলিজুড়া, কেউলা, বাঘেরবাড়িসহ ৩০টিরও বেশি গ্রামের মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। যুবে যাওয়া গ্রামগুলোর মানুষজন আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয়ন নিয়েছেন। গোবাদি পশুগুলো উজানের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এছাড়াও ফডতেহপুর, উত্তরভাগ ইউনিয়নে, উত্তর অন্তেহরি, দক্ষিন, জাহিদপুর, কাশিমপুর, আব্দুল্লাহপুর, শাহপুর, বেড়কুড়ি, ফতেহপুর, সুনামপুর, চালবন্দ, বাদেনারায়নপুর, শাহবাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠে গেছে। শনিবার বিদ্যালয় খোলার দিন হলেও পানির কারণে ছাত্রছাত্রীরা আসেনি। বিদ্যালয় ভবনের দুতলা ও বিভিন্ন বাড়িতে পাঠদানের ব্যবস্থা চলছে বলে জানালেন শিক্ষা কর্মকর্তা জাফর আল সাদেক। গুলোয় পাঠদান ফলে কার্যত বন্ধই রয়েছে ওই বিদ্যালয়গুলো। এছাড়াও মুন্সিবাজার, পাঁচগাঁও ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের আশেপাশে পানি প্রবেশ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, পিআইও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। কামালপুর ও বকসিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০টিরমতো পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দেয়া জিআর চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করা হবে। এছাড়াও আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে শুকনো খাবার ও একবেলা খিছুরি দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।#