জুলাই ৩, ২০১৭
Home » জাতীয় » ইলা দুর্ভোগে আর কতদিন কাটাইতাম

ইলা দুর্ভোগে আর কতদিন কাটাইতাম

এইবেলা, কুলাউড়া, ০৩ জুলাই:: অকাল পানিয়ে নিছে বরুয়া (বোরো) ক্ষেত। সাড়ে তিন মাস থাকি পানিবন্দি। কছম (শপথ) করি কইয়ার কেউ এক মুইট চাউল দিছে না। এখন ঢেউয়ে ঘরবাড়ি ভাঙ্গিয়া নেরগি। ইলা দুর্ভোগে আর কতদিন কাটাইতাম। আঞ্চলিক ভাষায় এমন হতাশা ব্যক্ত করলেন হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বড়দল গ্রামের জামাল মিয়া (৭০)। তিনি একা বাড়ি পাহারার জন্য থেকে গেছেন। স্ত্রী ৬ সন্তানকে পাঠিয়ে দিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে।

সরেজমিন গিয়ে এভাবে গত সাড়ে মাসে ত্রাণ না পাওয়া অসংখ্য মানুষের দেখা পাওয়া যায়। এরমধ্যে ভুকশিমইল ইউনিয়নের কাড়েরা গ্রামের যগেশ দাশ, আব্দুল মালিক, তজমুল আলী, প্রনতি দাস জানান, ত্রাণ চাইতে গেলে মেম্বার চেয়ারম্যানরা উল্টো ধমক দেন।

একই গ্রামের সাধন দাস, সজল দাস, শামল দাস জানান, এলাকার বেশিরভাগ মানুষের উঠানে পানি। কারো ঘরে ২-৩ ফুট পানি। পেশায় তারা মৎস্যজীবি হলেও তারা মাছ ধরতে পারছেন না। কারণ বন্যার পানি এতই বেশি যে, জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। গত সাড়ে ৩ মাস থেকে তারা খেয়ে না খেয়ে কোনমতে জীবন ধারণ করছে। হাওর তীরে এখনও ৫০ ভাগ মানুষের কাছে সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি।

হাকালুকি হাওর পাড়ে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া জুড়ী ও বড়লেখা এই ৩ উপজেলায় অকাল বন্যায় বোরো ফসল হারানো ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য ১৩টি ইউনিয়নে মে মাস থেকে ওএমএস কার্যক্রম চালু হয়। গত ০১ জুলাই থেকে হঠাৎ করে চাল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বানভাসী মানুষ।

ওএমএস ডিলার আজমল আলী জানান, ০১ জুলাই থেকে চাল বিক্রি বন্ধ করে দেয়ায় প্রতিদিন ৩-৪শ লোক ফেরৎ যাচ্ছে। কুলাউড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ওএমএস কার্যক্রম চালু ছিলো। এতে মাসে বন্যা দুর্গত ৪২ হাজার পরিবার ওএমএস’র চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হাওর তীরের ভুকশিমইল, জয়চন্ডী, কাদিপুর, ভাটেরা, বরমচাল, ব্রাহ্মণবাজার ও কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের দুর্গত মানুষের কথা বিবেচনা করে ফের ওএমএস কার্যক্রম চালুর দাবি মানুষের।

ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান মনির জানান, ওএমএস চালু থাকলে মানুষের মাঝে এত হাহাকার থাকতো না। তাছাড়া ত্রাণ হিসেবে চালের পরিবর্তে গম দেয়ায় মানুষ একটা ঝামেলায় পড়েছে। ভয়াবহ বন্যায় মানুষের উঠানে পানি। গম শুকিয়ে সেগুলো আবার ভাঙানোর একটা বাড়তি যন্ত্রনায় পড়েছে বানভাসী মানুষ।

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে  কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌ.মো. গোলাম রাব্বি জানান, কুলাউড়ায় ৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে বর্তমানে ১৭৩টি পরিবার রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। ওএমএস প্রসঙ্গে তিনি জানান, ৩০ জুন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই ওএমএস চালু ছিলো। এরপর আর কার্যক্রম ধারবাহিত করা হয়নি। আবারও ওএমএস চালু করার জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিঠি পাঠিয়েছি।#