- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

জুড়ীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট ও বাড়ছে রোগবালাই

এইবেলা, জুড়ী, ১০ জুলাই:: অকাল বন্যায় মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়লেও এখন আস্তে আস্তে পানি কমতে শুরু করেছে। প্রথমে ত্রানের জন্য হাহাকার করলেও এখন বিভিন্ন রোগ বালাইসহ দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এ সংকটরে কারণে পরিবারের খাবার রান্নাসহ পানি পান করতে হাকালুকি হাওর পাড়ের মানুষ এখন মহা সমস্যায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে সচেতনরা কষ্ট করে হলেও নৌকাযোগে  অনেক দূর (টিলা বাড়ি) থেকে তা সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তা থেকে পরিত্রাণ পেতে কতদিন যে সময় লাগবে এখন তাদের একমাত্র অপেক্ষার পালা। পানি কমার পরপরই শুরু  হয়েছে মানুষের মধ্যে প্রচন্ড জ্বর,নিউমোনিয়া, বসন্ত, কাশি, হাপানী, ডায়রিয়া, চর্মসহ পানিবাহিত নানা রোগেআক্রান্ত হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হওয়ায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এ সমস্যায় পড়েছেন।

সরেজমিন হাকালুকি পাড়ের সোনাপুর গ্রামের বজলু মিয়া (৬৫), শাহাপুর গ্রামের নাজমুন নাহার  ছকিনা (৪৫), নিশ্চিন্তপুরের সামছুল মিয়া (৬০), বেলাগাঁও গ্রামের শাহীন মিয়া (৩৫), ভূয়াই গ্রামের নূরুল মিয়া (৭০), বাছিরপুর গ্রামের ছগর আলী (৫৫), জাঙ্গিরাই গ্রামের আব্দুল ছফর (৮১), শাহগঞ্জ গ্রামের স্কুল ছাত্র আশরাফুল ইসলাম (১৪) সহ অনেকই তাদের কন্ঠে বলেন, “আখতা মেঘ দেওয়ায় আমরার বাড়িঘরসহ আশপাশ পানিত ডুবি গেছে। তুড়া তুড়া ফয় ফসল ক্ষেত করছিলাম, ইতাও সব পানিয়ে খাইলিছে। এখন আমরা কিতা খরতাম, আখতা আখতা বাড়িত নৌকা লইয়া কেউ কেউ তোড়া তোড়া চাউল,তেল দেইন। ইতা আমরা খান রান্দিয়া খাইতাম, খাইয়া না খাইয়া কুনো মতে দিন কাটলেও এখন তাফ, ডায়রিয়াসহ হকলজাত বেমারে দেখা দিছে। টেকা-পয়সা নাই, কিতা দিয়া ডাক্তর দেখাইমু ও দোয়াই লইমু, কেউত আমরারে টেকা দেয়না। আর পানির কতা আর কিতা খইতাম, ভালা পানি খাইতে অইলে বহুত দূরই যাওয়া লাগে। আমরার তো নৌকাও নাই। কলাগাছ দিয়া বোর বানাইছি।

এব্যাপারে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু চৌধুরী বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১টি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল টিমটি বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও উপজেলায় একটি টিম সার্বক্ষনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *