জুলাই ১৭, ২০১৭
Home » জাতীয় » দীর্ঘ সাত বছর পর বাস চলাচল শুরু করায় কমলগঞ্জে যাত্রীদের ভোগান্তির অবসান

দীর্ঘ সাত বছর পর বাস চলাচল শুরু করায় কমলগঞ্জে যাত্রীদের ভোগান্তির অবসান

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, ১৭ জুলাই :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা থেকে জেলা সদর মৌলভীবাজার রুটে আবারও যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কমলগঞ্জে বন্ধ থাকা অন্যান্য রুটেও যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু করবে। বন্ধ থাকা রুটে বাস চলাচল না করায় সিএনজি অটোরিক্সার দৌরাত্বে সাধারন যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলেন। নতুন করে আবারও যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু হওয়ায় স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী ও সাধারন  যাত্রীদের দুর্ভোগ কমবে। গত রোববার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে আবারও কুরমা-কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু করেছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায় কমলগঞ্জের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চেকপোষ্ট থেকে জেলা সদর মৌলভীবাজারের সাথে নিয়িমত যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতো। তখন উপজেলা ও জেলা সদরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পথের প্রত্যন্তএলাকার শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করার সুযোগ পেত। সাধারন যাত্রীরাও সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তুরনা মূলক কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারতেন। জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও সর্বত্র সিএনজি অটোরিক্সা বেড়ে যাওয়ায় বাসে আর আগের মত যাত্রী না পেয়ে গত সাত বছর আগে এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা ইচ্ছে মাফিক ভাড়া বাড়ালে যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হন।

অতিসম্প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন থেকে কমলগঞ্জের বিন্নি সড়কে সিএনজির চালকরা ঈদ বোনাস দাবী করে প্রথম ২/৩দিন যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা ভাড়া আদায় করেছে। ঈদের এক সপ্তাহ পরও ভাড়া না কমায় যাত্রীরা প্রতিবাদ জানালে সিএনজি অটোরিক্সার চালকরা গ্যাস বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলে দাবী করে।  যাত্রীরা  সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া বৃদ্ধি সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অবেদন কওে সহযোগিতা কামনা করেছিলেন।

যাত্রীদের অভিযোগ পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বাস মালিকদের ডেকে সভা করে পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা সবগুলো রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল আবার শুরি করার অনুরোধ জানান। নির্বাহী কর্মকর্তার অনুরোধে শিক্ষার্থী ও সাধারন যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে রোববার থেকে প্রথমে বন্ধ থাকা কুরমা-কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার রুটে আবার যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু করেছেন বাস মালিকরা। অনুসন্ধ্যানে জানা যায় কুরমা থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরে সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া নেওয়া হয় ৬০ টাকা। কুরমা থেকে জেলা সদর মৌভীবাজারে সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া নেওয়া হয় ৯০ টাকা। এখন বাস চলাচল শুরু হলে কুরমা থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভাড়া ৩৫ টাকা আর জেলা সদরের ভাড়া ৫৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

আলাপকালে ভূক্তভোগী যাত্রী আসহাবুর ইসলাম, বিকাশ রায়, কলেজ শিক্ষার্থী আসমা বেগম, সুরাইয়া আক্তার, বিশাখা সিনহা, অঞ্জন দেবনাথ, শিক্ষিকা লাভলী বেগম বলেন, বাস পুনরায় সার্ভিস হওয়া আমরা মহাখুশী। শমশেরনগর-মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কে দীর্ঘ সাত বছর যাত্রীবাহী বাস না থাকায় সুযোগ বুঝে চালকরা দফায় দফায় ইচ্ছেমত ভাড়া বৃদ্ধি করছেন। যাত্রীরা প্রতিবাদ জানালে প্রায় সময় চালকদের হাতে নাজেহাল হতে হয়। এখন আবার বাস চলাচল শুরু হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটা কমে যাবে। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন সিএনজি অটোরিক্সায় চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বাসে চলাচল তেমন ঝুঁকিপূর্ণ নয়। অনেক চাকুরীজীবি বরেন ভাল লাগছে কমলগঞ্জের বন্ধ থাকা রুট গুলোতে আবার যাত্রীবাহী বাস চলাচল শুরু করছে বলে। বাসে তুলনামূলক কম ভাড়া অফিসে যাতায়াত করা যায়।

কুলাউড়া-শমশেরনগর-শ্রীমঙ্গল রুটের বাস চালক আজম আলী ও রুহেল মিয়া বলেন তাদের রুটের অনেক বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও অল্প কয়েকটি বাস চলাচল ছিল। এখন আবার এ রুটে বাসের সংখ্যা বেড়ে যাবে। আগের মত তারার বিভিন্ন রুটের সাথে সমন্নয় করে বাসের সময় নির্ধারণ করবে। তাহলে যে কোন বাস যাত্রী এক রুটের বাসে এসে সহজে অন্য রুটের  বাসে কওে নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে।

গতকাল সোমবার (১৭ জুলাই) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, আসলে কুরমা থেকে কমলগঞ্জে শিক্ষার্থী বলি আর যাত্রী বলি সিএনজি অটোরিক্সায় দেড় থেকে দুই শত টাকা খরচ করে যাতায়াত করতে হতো। যাত্রীদের আবেদনে তিনি বাস মালিক ও চালকদের সাথে আলোচনা কওে আবার বন্ধ থাকা রুটগুলোতে বাস চলাচল শুরু করেছেন। একন দুর্ভোগ অনেক কমে যাবে। এতে মানুষজন আর্থিক দিকে কিছুটা লাভবান হবেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ থাকা অন্যান্য রুটেও বাস চলাচল শুরুর সাথে যাতে কম সময় নিয়ে চলাচল করে সেদিকে বাস চালকদের দৃষ্টি রাখতে তিনি বলেছেন।