জুলাই ৩১, ২০১৭
Home » নির্বাচিত » সাংবাদিকতার দায় থেকে কিছু কথা- আবু আইয়ুব আনসারীর সাহসিকতাকে অভিবাদন

সাংবাদিকতার দায় থেকে কিছু কথা- আবু আইয়ুব আনসারীর সাহসিকতাকে অভিবাদন

আজিজুল ইসলাম, ৩১ জুলাই ::

চৌধুরীবাজার মাদ্রাসা নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় যুগান্তর ও এইবেলায়। সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ। শুধু অভিযোগ থেকে সংবাদটি করিনি। সরেজমিন তদন্তও করি। তদন্তকালে আমার কাছে একটা বড়ধরণের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। যা হোক অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংবাদটি ছাপার জন্য পত্রিকায় পাঠাই এবং অনলাইনে প্রকাশ করি। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই অনেক কিছু বলেছেন। তাতে আমি বিচলিত হই নি।

সংবাদ প্রকাশের পর আবু আইয়ুব আনসারীর একজন ঘনিষ্ট আমার সাথে দেখা করেন। তিনি অনেক কিছু বলার পর শুধু সার সংক্ষেপ হিসেবে একটা কথা বলি- সুপারের কাছে একটাই রাস্তা। মাদ্রাসার সভাপতির সাথে বিষয়টির আপোষ নিষ্পত্তি করা। নয়তো নিজেকে রক্ষার আর কোন উপায় নেই।

সুপার আবু আইয়ুব আনসারীর বিরুদ্ধে আমার ব্যক্তিগত কোন অভিযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর কথা হয় সভাপতি আলহাজ্ব কুতুব শাহ বাচ্চাপীরের সাথেও খুব একটা সম্পর্ক নেই। কথার ফাঁকে সভাপতি শুধু অনুরোধ করেছিলেন, একটা মাদ্রাসা রক্ষার জন্য।  সেখানে লেখাপড়া করা শত শত ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে হলেও একটা নিউজ করার জন্য। সভাপতির অনুরোধ আমার বিবেকের কাছে নাড়া দেয়। অবশ্য সুপারের আত্মপক্ষ সমর্থণ ও সম্মানের বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পায়।

সংবাদ প্রকাশের পর ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি প্রদত্ত রিপোর্টে অনিয়ম প্রমানিত হয়।

এদিকে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর সুপার আবু আইয়ুব আনসারী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এটা একাট বিশাল ও ইতিবাচক দিক। আজকাল দুর্নীতির করাল গ্রাসে তলিয়ে যাওয়ার পরও কেউ এমন সৎ সাহস দেখায় না। যেভাবে হোক সুপার সেটি করে দেখিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। শ্রদ্ধা জানাই তাঁর এই সৎসাহকে।

যে যেভাবে আলোচনা কিংবা সমালোচনা করুন না কেন? সুপার পদত্যাগ করা মানে নিজের দায় স্বীকার করে নেয়া। আগেই বলেছি-এটা একটা বিশাল বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন সুপার। এটাকে পজিটিভ দৃষ্টিকোন থেকে দেখা উচিত। আমরা এটাকে উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারি।

নিজের ভুল বুঝতে পেরে কউ যদি অনুতপ্ত হয়। তবে তার ভুলকে ক্ষমা করা, সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেয়া উচিত। সমাজের সকল উদার মনের মানুষের উচিত, তাকে নৈতিকভাবে সমর্থণ দেয়া। #