আগস্ট ৩, ২০১৭
Home » আন্তর্জাতিক » মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কাতার প্রবাসী ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কাতার প্রবাসী ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ

 
 কাতার থেকে এম এ সালাম, ০৩ আগস্ট ::
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মীর নাসিরউদ্দীন উজ্জ্বল কাতার প্রবাসী হাজী বাশার সরকারের কাছে আর্থিক চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেটি না পেয়ে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর স্ত্রী রোকসানা বেগমকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করেছেন।
সাংবাদিক হিসেবে মীর নাসিরউদ্দীন প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে এ প্রতিশোধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। কাতারে নাজমা এলাকায় ২ আগস্ট বিকেলে রমনা রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন কাতারপ্রবাসী ব্যবসায়ী নেতা হাজী বাশার সরকার।
পাশাপাশি তিনি কাতারস্থ ঢাকা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় পার্টি কাতার শাখার সভাপতি। হাজী বাশারের পরিচালনায় একাধিক বাণিজ্যিক পোষাক প্রতিষ্ঠানে দু শর বেশি বাংলাদেশি ও অন্যান্য দেশের কর্মী কাজ করছেন। জেলায় সামাজিক ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০৭ সালে মুন্সীগঞ্জের ঝেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সাদা মনের মানুষ হিসেবে পুরস্কৃত হন। সংবাদ সম্মেলনে কাতারে কর্মরত বিভিন্ন বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতাকালে হাজী বাশার সরকার বলেন, মীর নাসিরউদ্দীন উজ্জ্বল গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে আমার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার নিয়মবহির্ভূত আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। তিনি আমার বাসার কেয়ারটেকারকে মারধরও করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি তিনি আমার কাছে একটি সংগঠনের নামে দু লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এসব কারণে তাঁর উপর হামলাকারী হিসেবে আমার স্ত্রী, ভাই ও অন্য স্বজনদের জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বাশার সরকার দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী গত ১৭ জুন বাংলাদেশে যান। স্ত্রীর পেটে টিউমার অপসারণে অপারেশনের জন্য তিনি অপেক্ষা করছিলেন। অথচ ৩০ জুলাই অচেনা লোকজনের হামলায় নিজ বাসায় সাংবাদিক উজ্জ্বল আহত হওয়ার পর প্রকৃত হামলাকারীদের না ধরে আমার স্ত্রীর উপর এর দায় চাপান। পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদের নামে সেই রাতে আমার স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় এবং পরে জেলহাজতে পাঠায়। হাজী বাশার তাঁর প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে এমন অন্যায় ও হয়রানিমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, উপর মহলের চাপে প্রশাসন সাংবাদিক উজ্জ্বলের পক্ষে মিথ্যা মামলা গ্রহণ করেছে। মুন্সিগঞ্জের প্রেসক্লাবে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি আমি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। আমি এবং আমার পরিবার কখনো কোনো অন্যায় বা অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়েছি, এমনটি কেউ প্রমাণ করতে পারলে কোটি টাকা পুরস্কার দেব।
বাশার সরকার বলেন, এখনো সাংবাদিক উজ্জ্বলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, টাকা দিলে মামলা উঠিয়ে নেবে। ওই হামলার ঘটনা ঘটার পর আমি তখনই উজ্জ্বলের স্ত্রী ফারহানা । তিনি আমাকে জানান, আপনার স্ত্রীকে এ ঘটনায় জড়ানো হবে না। আপনি চিন্তা করবেন মির্জার সঙ্গে কথা বলি না। অথচ তাঁরা এখন আমার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে চূড়ান্ত ভাবে আমার পরিবারকে অপমান ও হেয় করছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে বাশার সরকার বলেন, একজন প্রবাসীর নিরপরাধ স্ত্রীকে রক্ষায় প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, সেটি নিশ্চিত করতে আমি দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আর্জি জানাচ্ছি। পাশাপাশি প্রবাসীদের প্রতি অর্থলোভী সাংবাদিক নামধারীদের এমন অন্যায় ও হিংসাত্মক আচরণ বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।