- ব্রেকিং নিউজ, মৌলভীবাজার, স্লাইডার

কাউয়াদীঘি হাওরে আড়াই হাজার হেক্টর জমি এখনও চাষ করা যায়নি

আব্দুর রহমান সোহেল, ১৮ আগস্ট :: দুইদনের টানা বর্ষণ ও ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরসহ মনু ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বন্যা আশঙ্খা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও কাউয়াদীঘি হাওরের পানি বৃদ্ধির কারণে আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। বোরোর পর আমন চাষ করা না গেলে অনাহারে দিন কাটাতে হবে কৃষকেদের।

এদিকে ধলাই নদীর পনি উপছে কড়াইয়া হাওরের ১ হাজার একরেরও বেশি রোপা আমন তলিয়ে গেছে।  উপজেলার ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি একে বারেই কমে গেছে। গত ৩ মাসধরে মৌলভীবাজার-রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসের অধিক সময় ধরে জেলার কাওয়াদীঘি হাওরে পূর্বের কয়েক দফা বন্যার পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় জীবন-যাপন করছে। এতে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত মানুষের দূর্ভোগ ও ভোগান্তি চরমে পৌঁচেছে।

এদিকে ধলাই নদীর পানি উপচে কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরের ১ হাজার একর রোপা আমন তলিয়ে গেছে। কাউয়াদীঘি হাওরের পানি বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষের মৌসুম শেষ হয়ে আসলেও আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে এখনো আমন চারা রোপন করতে পারেন নি কৃষকরা। বোরো মৌসুমের পর এবার আমন চাষ ক্ষতিগ্রস্থ হলে না খেয়ে মরতে হবে কৃষকদের।

উপজেরা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর উপজেলায় ১১ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ হয়।

কাওয়াদিঘী হাওরপাড়ের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কেওলা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, কাওয়াদিঘী হাওরে ইতিমধ্যে এক ফুটের অধিক পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। এতে পূর্বের সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আরও বেড়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, হাওরের বোরো ধান ঘরে তুলা যায়নি। এখন যদি আমনও চলে যায় তাহলে কৃষকদের না খেয়ে মরতে হবে।

‘গত কিছুদিন ধইরা (ধরে) পানি কমাত (কমে) আচিল (আসছিল)। গত কইদিন (কয়েক দিন) আরবার (আবার) বাড়ি (বেড়ে) গেছে। হামরা (আমরা) এখন বহুত (খুব বেশী) খষ্টর (কষ্টের) মধ্যে আছি। আর মনটায় কয় (মনে হয়) বাঁচতাম নায়। খিতা কাইতাম কাম-খাজ কিছূই নাই (কি খাবো, কাজ-কর্ম কিছুই নেই)’- এ কথাগুলো বলছিলেন কাওয়াদিঘী হাওরপাড়ের কেওলা গ্রামের নানু মিয়া।

রাজনগরের মোকামবাজার এলাকার ফারুক আহমদ জানান, ধীর গতিতে কিছু কিছু এলাকায় পানি কমলেও গত দিনের বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা যেই সেই হয়ে গেছে। মনু প্রকল্পের পাম্প হাউসের ৮টি পাম্প কাউয়াদীঘি হাওরের পানি নিস্কাষণে তেমন প্রভাব ফেলতে না পারায় মানুষের দূর্দশা লাঘবে কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ আজিজুর রহমান বলেন, ধলাই নদীর ভাঙন দিয়ে কা[াইয়া হাওরে পানি প্রবেশ করায় প্রায় হাজার একর জমি তলিয়ে গেছে। এছাড়াও কাউয়াদীঘি হাওরের জলাবদ্ধতার কারণে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে এখনো রোপা আমন চাষ করা য়ানি। কয়েকদিন মধ্যে রোপন করা সম্ভব হলে ফলন পাওয়া যেতে পারে।

About eibeleamialabula

Read All Posts By eibeleamialabula

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *