সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৭
Home » ব্রেকিং নিউজ » কমলগঞ্জের জ্যোতি সিনহার এমফিল ডিগ্রি অর্জন

কমলগঞ্জের জ্যোতি সিনহার এমফিল ডিগ্রি অর্জন

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, কমলগঞ্জ, ১৬ সেপ্টেম্বর ::

চরিত্রকে জীবন্ত ফুটিয়ে তুলতে নিজের রক্ত-ঘামকে তিনি এক করেন। প্রাণবন্ত দৃশ্যকাব্যে একের পর এক দর্শকদের দৃষ্টি এবং মননকে চমকিত করতেই তার নিরন্তর সাধনা। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ঘোড়ামারা নটমন্ডপে অবস্থিত মণিপুরী থিয়েটারের শক্তিমান এই তরুণী যেন রঙ্গমঞ্চে বিরল নৈপুণ্যের সাথে নব নব ঝলক দেখিয়ে জয় করে চলেছেন মঞ্চাঙ্গনের প্রতিটি মানুষের হৃদয়সীমা। ঠিক রূপকথার গল্পের মতোই এ মঞ্চকন্যার কীর্তি। তার অসামান্য অভিনয়কারুর কাছে এই কথাগুলো নিতান্তই সামান্য হয়তো।

মন্ত্রমুগ্ধ অভিনয়গুণে শুধু মণিপুরি সংস্কৃতিতেই নয়, দেশের সংস্কৃতিতে অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের গবেষক জ্যোতি সিনহা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মণিপুরি সংস্কৃতি ও রাসলীলার ওপর গবেষণা করে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি মঞ্চের অভিনয়শিল্পী এবং মণিপুরি থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক।

জানা যায়, ২০১১-১২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগে ‘মণিপুরি সংস্কৃতি ও রাসলীলা: একটি সমাজতাত্ত্বিক পাঠ’ শিরোনামের গবেষণাকর্ম শুরু করেন তিনি। এর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন উক্ত বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং যুগ্ম তত্ত্বাবধায়ক ড. অসিত বরণ পাল। এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে জ্যোতি সিনহা অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেছিলেন।

‘কহে বীরাঙ্গনা’ ছাড়াও মণিপুরি থিয়েটারের ‘দেবতার গ্রাস’, ‘লেইমা’, ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’, ‘চন্দ্রকলা’, রুদ্রচ-’, ‘ধ্বজো মেস্তরীর মরণ’, ‘ইঙাল আঁধার পালা’ সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা অর্জন করেছেন। দলের বাইরেও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী রেপার্টরীর ‘বিদেহ’ নাটকে অভিনয় করেছেন জ্যোতি। নির্দেশনা দিয়েছেন নৃত্যনাট্য ‘কালমৃগয়া’। প্রতিশ্রুতিশীল নাট্যজন শুভাশিস সিনহার নেতৃত্বাধীন নাট্য সংগঠন মণিপুরি থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তিনি। মঞ্চাঙ্গনের পাশাপাশি কয়েকটি টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন জ্যোতি। বর্তমানে তিনি মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার পদে কর্মরত আছেন। তার এই দুরন্ত পথচলায় মণিপুরী থিয়েটার আরো আলোকিত হোক, তিনি হয়ে উঠুক সময়ের অনন্য উজ্জ্বল সারথি। সে প্রত্যাশার কথা জানায় কমলগঞ্জের মণিপুরী থিয়েটারের শিল্পীরা।#