সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭
Home » জাতীয় » লাউয়াছড়ার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন- বন ও পরিবেশ সচিব

লাউয়াছড়ার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন- বন ও পরিবেশ সচিব

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, কমলগঞ্জ, ২১ সেপ্টেম্বর ::

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: ইশতিয়াক আহমদ বলেছেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় সামাজিক সচেতনার সাথে সাথে রাজনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন। পরিবেশের ও এ বনের বন্য প্রাণী রক্ষায় এখানকার গাছ গাছালিকেও রক্ষা করতে হবে।  সীমিত সংখ্যক বনকর্মী দিয়ে বন রক্ষা করা কঠিন কাজ। এ জন্য বন কর্মীদের সাথে মিলে এলাকাবাসীকে নিয়ে আরও বেশী করে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বন দস্যুরা যাতে কোন প্রকার রাজনৈতিক প্রশ্রয় না পায় সে জন্য সামাজিক সচেতনতার সাথে রাজনৈতিক সচেতনতাও প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ডিজিটাল বিজয় অর্জনের একটি অংশ হতে হবে বন ও পরিবেশ রক্ষা।

২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করে কিছু বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করেই সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

p-02

বন ও পরিবেশ মন্ত্রনালয় সচিব আরও বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের একটি বড় সম্পদ। এখানে অনকে বিরল প্রাণীর সাথে সাথে অনেক বিরল গাছ গাছালিও রয়েছে। কোনভাবেই যাতে এ জাতীয় উদ্যানের ক্ষতি না হয় সে দিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। প্রয়োজনে বন ও পরিবেশের ক্ষতিকারীদের সম্পর্কে বন বিভাগ ও প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। সামাজিক আন্দোলন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ব্যাপক জনসচেতনতার মধ্যদিয়ে লাউয়াছড়া বনের উন্নয়ন সম্ভব। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আইনগত দিক দিয়ে সরকার সব সময় প্রটেকশন দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন রক্ষায় সকলের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে নানা অপতৎপরতা রোধ করতে হবে। গাছ চোরদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। দেশ উন্নয়নশীল থেকে এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে চলমান রেলপথ ও সড়ক পথে অনেক বন্য প্রাণী মারা যাওয়া সম্পর্কে বন ও পরিবেশ সচিব বলেন, আপাতত সড়ক পথটির ৫ কি:মি: এলাকাকে বিকল্প পথে নিয়ে যাবার উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত মোটামোটি হয়ে আছে। এ জন্য বড় ধরনের তহবিল হলেই বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে। তবে রেলপথ সরানোর কোন সিদ্ধান্ত এখনও হযনি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ এস এম মনিরুল ইসলাম, বন্যপ্রানী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান, শ্রীমঙ্গলন্থ মহকুমা সহকারী বন সংরক্ষক মনিষ চাকমা ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জন দেব।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সচিব বৃহস্পতিবার দুপুরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বন বিভাগ ও বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে একটি মেছোবাঘ, দুটি চিতা বিড়াল শাবক, একটি অজগর সাপ, একটি বিরল প্রজাতির ভাইরাল সাপ, একটি শঙ্খচোড়া সাপ, একটি লজ্জাবতী বানর ও একটি গুই সাপ অবমুক্ত করেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোকালয়ে এগুলো ধরা পড়ে আহত হয়ে শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পর এসব বন্যপ্রাণী অবমুক্ত করা হয়।#