সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭
Home » জাতীয় » হাতি রসগোল্লার ২য় শিকার কুলাউড়ার গনি মিয়া

হাতি রসগোল্লার ২য় শিকার কুলাউড়ার গনি মিয়া

এইবেলা, কুলাউড়া, ২৩ সেপ্টেম্বর ::

কুলাউড়া উপজেলার মনছড়া বিটে হাতি (রসগোল্লা) র আক্রমনে শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর গনি মিয়া (৪৫) নামক এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিও একজন হাতির (মাহুত) চালক বলে জানা গেছে। এর ২০ দিন আগে অর্থাৎ ৩ সেপ্টেম্বর রাতে উক্ত হাতি জুড়ী উপজেলার পুটিছড়ার বাসিন্দা মঙ্গল খাড়িয়া নামক এক চা শ্রমিককে হত্যা করে। পর পর দু’টি মানুষকে মারার পর কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলায় মানুষের মাঝে হাতি রসগোল্লা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, শনিবার সকাল আনুমানিক সকাল ১০ টায় মনছড়া বস্তির বাসিন্দা মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে গণি মিয়ার উপর আক্রমন চালায় হাতি রসগোল্লা। এতে ঘটনাস্থলেই গনি মিয়ার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

হাতির আক্রমনের শিকার মৃত গনি মিয়ার ভাই ফুল মিয়া জানান, মৃত গণি মিয়াও পেশায় হাতির চালক (মাহুত)। তার স্ত্রী, ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের কথা বিবেচনা করে তিনি বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তি করতে চাচ্ছেন। এবং লাশের ময়না তদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

জানা যায়, উক্ত হাতির প্রথম আক্রমনে নিহত জুড়ী উপজেলার পুটিছড়ার বাসিন্দা মঙ্গল খাড়িয়ার পরিবারকে এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তি করা হয়। হাতিটির মালিক জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন মইজন।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম মুসা জানান, হাতির ফোঁড় দিযে পেছিয়ে গনি মিয়াকে মেরেছে বলে সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। হাতির মারাটা হত্যাকান্ডের পর্যায়ে পড়ে না। তাছাড়া পেশায় হাতি চালক (মাহুত) কেন এই হাতিটির কাছে গিয়েছিলো বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, একটা হাতি একাধিক মানুষকে হত্যা করবে। বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গনি মিয়া ও মঙ্গল খাড়িয়ার হত্যাকারি হাতিটি মনছড়া বনবিট এলাকায় অবস্থান করছে।#